রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:১৩ পিএম


মেধা তালিকায় থেকেও ভর্তির অযোগ্য তারা!

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ৪ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:০২, ৪ নভেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মেধা তালিকায় থেকেও ভর্তি অযোগ্য হিসাবে বিবেচিত হচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় জায়গা পেয়েছন। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা ভর্তি হতে পারছেন না। অবশ্য গতবারও ভর্তির আবেদনের যোগ্য ছিলেন তারা।

এমন নিয়মে ভর্তি অযোগ্য শিক্ষার্থীরা বলছেন, ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে নতুন চালু করা নিয়ম ‘সুস্পষ্ট’না থাকায় তারা বিভ্রান্ত হয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন। অযোগ্য হলে তাদের আবেদন বাতিল করা হলো না কেন?

পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার পর তারা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অব্যবস্থাপনার’ কারণে তাদের ভবিষ্যত হুমকির মুখে।

তাছাড়া দেশের দূর-দূরান্ত থেকে এসে পরীক্ষা দেয়ার জন্য তাদের হাজার হাজার টাকা ব্যয় ও ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়েছে। এসবে দায় বিশ্ববিদ্যালয়কে নিতে হবে; অন্যথায় তাদের ভর্তির সুযোগ দিতে হবে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার ভর্তির ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিকে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে শুধু গতবার আবেদনে অযোগ্য শিক্ষার্থীরাই যে যোগ্য বিবেচিত হবেন; সে বিষয়টি ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল। ফলে গতবারের যোগ্যরা এবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় এলেও ভর্তি হতে পারবেন না।

মেধা তালিকায় জায়গা পাওয়া এমন অন্তত অর্ধশত ‘অযোগ্য’ ভর্তিচ্ছুর সঙ্গে কথা হয়েছে। সুযোগ পেলে যাদের অনেকেই চাহিদা তালিকার শীর্ষ বিষয় পড়তে পারবেন।

ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির জন্য যারা ২০১৮ সালের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলাফলে আবেদনের যোগ্য ছিল না। তবে ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় (মান উন্নয়ন) অংশগ্রহণ করে যোগ্যতা অর্জন করছে তারা আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

শিক্ষার্থীরা যুক্তি দেখিয়েছেন, ‘গতবার ভর্তির জন্য আবেদনের যোগ্যরা যে এবার মান উন্নয়নের ফল দিয়ে ভর্তির জন্য আবেদনের যোগ্য হবেন না’ তা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হয় ৮ সেপ্টেম্বর। এজন্য প্রত্যেক আবেদনকারীকে প্রতিটি ইউনিটে আবেদন বাবদ গুণতে হয়েছে ৪৭৫ টাকা। এর সঙ্গে ৭৫ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হয়েছে।

এবার সর্বমোট আবেদন করেছিলেন এক লাখ ৬৬ হাজার ৮৭০ জন, যাদের মধ্যে মানোন্নয়নের পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ হাজার ৭৪১ জন।

তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক হানিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত মেলে।

আবেদনের অযোগ্যদের কেন প্রবেশপত্র দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষা কমিটির নীতিমালা আইসিটি সেলে আসে ৩ সেপ্টেম্বর। ততদিনে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু হতে পাঁচদিন বাকি। এত দ্রুত সফটওয়্যার ডেভেলপ করা সম্ভব না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের উপরে আবেদনকারীদের জন্য বলা হয়েছে, আবেদন করার পূর্বে লক্ষ্য করুন। এখন তারা বিষয়টি লক্ষ্য না করলে তাদের ফল্ট। মেধাতালিকায় আসার পর এবিষয়ে অভিযোগ করলে বুঝতে হবে তাদের উদ্দেশ্য খারাপ ছিল।

পুরো বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীণ আখতারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ যদি ভিন্নভাবে আবেদন করে, তাহলে তারা (আবেদনকারীরা) ভুল করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ভুল করেনি। এডমিশন কোরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তি চলবে। এক্ষেত্রে কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

এডুকেশন/কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর