শনিবার ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:৫১ এএম


মেধা ও প্রশিক্ষণ বিবেচনায় নির্ধারণ হবে ক্যাডারদের জ্যেষ্ঠতা

শরীফুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ৩ জুলাই ২০১৯  

জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের নিয়ম পাল্টাচ্ছে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের। শুধু বিসিএস পরীক্ষার ফলের মেধাক্রম নয়- জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে এখন থেকে নিয়োগ পাওয়ার পর কর্মকর্তার প্রশিক্ষণের ফলও মূল্যায়ন করা হবে। এ দুইয়ের সমন্বয়ে আন্তঃক্যাডার কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের বিধান রেখে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস জ্যেষ্ঠতা বিধিমালা-১৯৮৩ সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে শিগগিরই সংশোধনী বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।

সংশোধিত বিধিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, নিয়োগকালীন মেধার সঙ্গে প্রশিক্ষণ পরবর্তী দক্ষতার সমন্বয় করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে। সেক্ষেত্রে পিএসসি পরীক্ষায় শতকরা ৬০ এবং বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে ৪০ নম্বর থাকবে। প্রশিক্ষণের পারফরম্যান্সের ওপর কর্মকর্তারা নির্ধারিত নম্বর পাবেন। পরে দুটো নম্বর যোগ হয়ে নির্ধারণ করবে আন্তঃক্যাডার জ্যেষ্ঠতা। বর্তমানে শুধু বিসিএস পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ধারণ হয় মেধাক্রম। আর এ মেধাক্রম অনুযায়ী দেওয়া হয় জ্যেষ্ঠতা। তবে ওপরের পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নানা বিষয় দেখা হয়- যেগুলোর মধ্যে একটি জ্যেষ্ঠতা।

এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাকিব হোসেন বলেন, নিয়োগকালীন মেধার সঙ্গে প্রশিক্ষণ পরবর্তী মেধা সমন্বয় করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে। এ জন্য বিধিমালা সংশোধন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিধিগত জটিলতা আছে কি-না, তা সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, নিয়োগকালীন মেধার সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষের মেধার সমন্বয়ে চূড়ান্ত মেধাক্রম নির্ধারণের বিষয়টি নতুন ব্যাচের ক্ষেত্রে চালু করা যুক্তিযুক্ত হবে।

প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এটি একটি ইতিবাচক ভালো উদ্যোগ। তবে এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পদায়ন না করে সরাসরি পিএসসিতে অথবা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একই ব্যাচের সব কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ অভিন্ন কারিকুলামে করার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রশিক্ষণের পর মেধাকে পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

বেশ কিছু দিন ধরে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে বিদ্যমান পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়। পরে জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির বৈঠকেও এ নিয়ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টিকে পর্যালোচনা করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটি বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি সভা করে বিধিমালা সংশোধনের সুপারিশ করে। পরে বিধিমালা সংশোধনী খসড়া তৈরির কাজ শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এটি প্রণয়ন করা হবে।

এদিকে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রশিক্ষিতের সিলেবাসও অভিন্ন হতে চলেছে। বর্তমানে পৃথক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পৃথক প্রশ্নপত্রে কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ হয়। এর ফলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সামঞ্জস্য থাকে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অভিন্ন প্রশ্নে প্রশিক্ষণ প্রার্থীদের মূল্যায়নের নিয়ম করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ পরবর্তী মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি ইত্যাদি বিষয়েও নীতিমালা তৈরির বিষয় থাকছে এ বিধিমালাতে।

এ বিষয়ে সরকারি কর্ম-কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আ. ই. ম. নেছার উদ্দিন বলেন, কমিশনের মতামত ইতিমধ্যে প্রতিবেদন আকারে জনপ্রশাসনে জমা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তার কোনো মতামত নেই। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে মেধা স্কোর সমন্বয় করতে হলে বিদ্যমান বিধিমালা বিশেষ করে বিসিএস নিয়োগবিধি ১৯৮১, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস জ্যেষ্ঠতা বিধিমালা ১৯৮৩ সংশোধনের প্রয়োজন। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠতার সাধারণ নীতিমালার সঙ্গে এটি যাতে সাংঘর্ষিক না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

সৌজন্যে: সমকাল
এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর