শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২০ ১৫:৩৫ পিএম


মুজিববর্ষে ১ হাজার ৭১টি গ্রন্থাগারে হবে ‘মুজিব কর্নার’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:১৯, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ বা মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের ১০৭১টি গ্রন্থাগারে ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করা হবে। তার মধ্যে ৭১টি সরকারি ও ১০০০টি বেসরকারি গ্রন্থাগার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোকে দুই লাখ টাকা করে দেয়া হবে।

এ টাকা দিয়ে বই ও আসবাবপত্র কেনা হবে। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আয়োজিত চার দিনব্যাপী সেমিনারের শেষদিনে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতা-কর্মকর্তারা। এ দিন রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর ১০৩টি বেসরকারি গ্রন্থাগার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

চার দিনে দেশের বিভাগ-জেলাওয়ারি এ সেমিনারে ৪১২টি বেসরকারি গ্রন্থাগারের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা পাঠাগার পরিচালনায় নানান সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সেমিনারের প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বেসরকারি গ্রন্থাগারের ভূমিকা’।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র পরিচালক মিনার মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অসীম কুমার উকিল এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স অরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সভাপতি ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুল মান্নান ইলিয়াস। মধ্যাহ্নবিরতির সময় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতি ও বেরাইদ গণপাঠাগার সভাপতি এবং সম্মিলিত গ্রন্থাগার আন্দোলনের সমন্বয়ক এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া।

প্রধান অতিথি অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই। সোনার মানুষ হতে হলে লেখাপড়ার বিকল্প নেই। এজন্য পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বাড়তি বই পড়বে। গণগ্রন্থাগারগুলো হচ্ছে এসব বইয়ের ভাণ্ডার। সেখানে গিয়ে জ্ঞানচর্চা বাড়াতে হবে। উপহারের তালিকায় বই শীর্ষে রাখতে হবে’।

ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স অরেফিন সিদ্দিক বলেন, জ্ঞান আহরণ, মানুষে মানুষে যোগাযোগ, সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও বন্ধন বাড়ানোর একটি সুন্দর জায়গা হচ্ছে গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও প্রসারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মানবসভ্যতার বিকাশে এর বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথি শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘সুস্থ সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক গণজাগরণ দরকার। শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটলেই তা কেবল সম্ভব। দেশের পাঠাগারগুলোর উন্নয়নে ভেবেচিন্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে এগোতে হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুল মান্নান ইলিয়াস বলেন, বেসরকারি গ্রন্থাগারে ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপনে ‘ডিপিপি’ জমা দিয়েছি। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে’।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক মিনার মনসুর চার দিনের এ সেমিনারে প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আসা নানা সমস্যার সারবস্তু তুলে ধরেন এবং অনেক প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দেন।

কপি রাইট আইন : বিরতির পর দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘কপি রাইট আইন : লেখক ও প্রকাশকের অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ তুলে ধরেন কপি রাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী। বাংলাদেশ কপি রাইট অফিস ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর