বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০১৯ ১:০১ এএম


মিটফোর্ডে ডায়ালায়সিস রোগীর জন্য ২০ শয্যার ইউনিট চালু হচ্ছে

প্রকাশিত: ১৩:৪১, ৩ জানুয়ারি ২০১৯  

নতুন বছরে রাজধানীর সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ২০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করা হবে। একইসঙ্গে রোগীর রোগ নির্ণয়ে নতুন এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন চালু হচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছেন, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার।

হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে নানা ধরনের সংস্কার কাজের উল্লেখের পাশাপাশি ২০ শয্যার ডায়ালায়সিস ইউনিট চালুর প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল পরিচালনায় সরকারের প্ল্যান আমাদের প্ল্যান। স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সরকারের যে প্ল্যান থাকে সেটাই বাস্তবায়ন করা হয় আমাদের মাধ্যমে। তো সরকারের প্ল্যানটাই আমরা বাস্তবায়ন করবো, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেবো, মানুষকে কোয়ালিটি স্বাস্থ্যসেবা দেবো। সেটা যেভাবে দেওয়া যায়, আমরা সেইভাবে দেবো।’


গত দুই অর্থবছরে আট কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে এই হাসপাতাল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন ২০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস মেশিন চালু করবো। সরকার আমাদের আট কোটি টাকা দিয়েছে হাসপাতাল ভবনটি সংস্কারের জন্য। সংস্কারের কাজ চলছে। প্রতিটি অপারেশন থিয়েটারে আমরা ইপক্সি বসাচ্ছি, রুফটপ টাইলস করে দিচ্ছি, প্রত্যেক অধ্যাপকের রুম রিপেয়ার (সংস্কার) করে দিয়েছি। রোগীদের বাথরুম ও টয়লেট রিপেয়ার করছি। সব ধরনের রিপেয়ারের কাজ এই হাসপাতালে চলছে। আর সামগ্রিকভাবে আমরা সরকারের যে কার্যক্রম থাকে সেগুলোই আমরা বাস্তবায়ন করি।’

রোগীরা যাতে সহজেই হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ও কক্ষ খুঁজে পান সেজন্য হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে দিক নির্দেশনা বোর্ড দেয়ালে টানানোর কথাও উল্লেখ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার।


২ জানুয়ারি (বুধবার) হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের মতোই হাসপাতাল জুড়ে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। এদের কেউ এসেছেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে, কেউ এসেছেন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে। হাসপাতালের বেডশিটগুলোও অপরিচ্ছন্ন। এর ওপরেই শুয়ে স্যালাইন নিচ্ছেন কোনও কোনও রোগী।

হাসপাতালটির বার্ন ইউনিটে গত ১৯ দিন ধরে ভর্তি আছেন তহুরুন বেগম (৭০)। তার পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচারের পর তার ড্রেসিং চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ওষুধ দেয় কিনা জানতে চাইলে মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দেন তিনি। এই বৃদ্ধা বলেন, ‘ওষুধ কিন্যা খাইছি, হেইড্যা এহন ডাক্তারে বাদ দিতে কইসে। হাসপাতাল থেইক্যা ওষুধ দেয়। এইগুলাই খাইতে কয়।’

পেটে পাথর নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আমেনা বেগম। তার পাশে আনোয়ারা বেগমও পেটে পাথর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আনোয়ারার পাশের বেডেই খাদ্যনালীতে পাথর নিয়ে গত পঁচিশ দিন ধরে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি আছেন হাসিনা বেগম (২৫)। তিনি বলেন, ‘আমার তো এখন কোনও ওষুধ লাগে না। এখন খালি গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট দেয়। আর কিছু দেয় না।’

হাসপাতালের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে এসব রোগী জানান, ওষুধপত্র, খাবার-দাবারে সমস্যা নাই, তবে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আরেকটু বাড়ানো প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার জানান, হাসপাতালটি পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য অতিরিক্ত ২শ’ ক্লিনার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালটি পরিষ্কার রাখতে রোগী ও তাদের স্বজনদেরও সচেতনতা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। কারণ, এদের অনেকেই যেখানে সেখানে কফ-থুথু ফেলে পরিবেশ নোংরা করেন। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলেন। এ কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন দেয়ালে ‘যেখানে সেখানে কফ-থুথু ফেলবেন না। সরকারি হাসপাতাল এটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আপনার’-এমন সতর্কবার্তা টানানোর কথাও উল্লেখ করেন বঙ্কিম হালদার।

হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য সম্পর্কে রোগীদের অভিযোগের প্রসঙ্গে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার বলেন, ‘দালালচক্রের যে অভিযোগ করেছেন এটা আমরা একেবারে অস্বীকার করি না। কিছু দুষ্টচক্র আছে সব জায়গায়, সব সময়। আগেও ছিল। এগুলো আমরা কন্ট্রোলে রাখার চেষ্টা করি। আমাদের সব জায়গায় লেখা আছে দালালচক্র থেকে সাবধান। কিছু ছবি দেওয়া আছে যে এদের থেকে সাবধান। তারপরও আমাদের সেন্ট্রাল মাইকিং সিস্টেম আছে। সেন্ট্রাল মাইকিং সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা কিছু সময় পরপর মানুষকে সচেতন করি।’

তিনি সিসি ক্যামেরা দেখিয়ে বলেন, ‘দ্যাখেন (সিসি ক্যামেরার দিকে দেখিয়ে) আমার সিকিউরিটি ঘুরতেছে, হাতে একটা ওয়াকিটকি আছে। সেন্ট্রাল মাইকে আমরা দিনে দুই একবার বলি যে দালালচক্র থেকে সাবধান, চোর থেকে সাবধান, মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে হাসপাতালে আসবেন না।’


তবে হাসপাতালে নিরাপত্তা কর্মীর সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার মাত্র ২০ জন আনসার আছে। আমাকে যদি সরকার আরও ৫০ জন আনসার দেয় তাহলে সিকিউরিটি ভালো হবে। তবে, একথা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে, দালালচক্র আছে। আমরা এসব নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। ৬৪টা সিসি ক্যামেরা আছে। বিশেষ প্রয়োজনীয় জায়গায় এগুলো চালু করা আছে এবং সব জায়গায় লেখা আছে, আপনার গতিবিধি সিসিটিভির আওতায় এবং আপনার গতিবিধি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

রোগীদের সমস্ত ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে যে সব রোগী চিকিৎসা নেয়, তাদের কোনও ওষুধ রোগীর বাইরে থেকে কিনতে হয় না। তবে, কিছু দুরারোগ্য ব্যাধি আছে সেগুলোর জন্য কিনতে হয়। কিছু দামি ওষুধ ও স্যালাইন আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে কোম্পানির কাছ থেকে কিনে নিচ্ছি। ওষুধের ব্যাপারে সরকারের বাজেট এখন অনেক ভাল। তাই ওষুধ আমি রোগীদের দিয়ে শেষ করতে পারছি না। অন্য হাসপাতালে আমাকে দিতে হচ্ছে। আজকেও দিয়েছি। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওষুধ ব্যবহার করতে হয়।’সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর