সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯ ৫:১৭ এএম


মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:২৪, ৯ জানুয়ারি ২০১৯  

আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা করা হয়েছে। মান্ধাতার আমলের গঠনতন্ত্র সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক ডাকা হয়েছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি, রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরিসহ অন্য কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় আড়াই যুগ পর ডাকসুর বন্ধ দরজা উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসুর সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। সহসভাপতি বা ভিপিসহ ডাকসুর অন্য নেতা নির্বাচিত হন ছাত্রছাত্রীদের ভোটে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যথাসময়েই আমরা নির্বাচন সম্পন্ন করব। প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

ভোটার তালিকার জন্য ছাত্রছাত্রীদের ডাটাবেজ তৈরি হয়ে গেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের পর সেটি চূড়ান্ত হবে। বাকি কাজ শেষ করতে বিভিন্ন কমিটি কাজ করছে।

দেশের ‘দ্বিতীয় পার্লামেন্ট’খ্যাত ডাকসু নির্বাচন সর্বশেষ ১৯৮৯ সালের ৬ ডিসেম্বর হয়। এক বছর মেয়াদি সেই ডাকসু বহাল ছিল ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ১৯৮৯ সালের পর বিগত সরকারগুলোর আমলে ডাকসুর কোনো নির্বাচন হয়নি। তবে আদালতের নির্দেশনার আলোকে এবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত বাদ্য বেজে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডাকসু নির্বাচন সফল করতে হলের প্রভোস্টদের নেতৃত্বে কাজ চলছে। শৃঙ্খলা কমিটি এবং প্রভোস্ট কমিটি মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। ডাকসু নির্বাচনের প্রধান অংশীদার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন নিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে পরিবেশ পরিষদের বৈঠক হয়।

সেখানে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা ছাত্রদল নেতারাও যোগ দেন। ওই বৈঠক হওয়ার পর ২৯ বছর ধরে বন্ধ ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে প্রত্যাশা বড় হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় পরে ভোটার তালিকার জন্য ডাটাবেজ করা হয়। তৃতীয় ধাপ হিসেবে ১০ জানুয়ারি গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য বৈঠক ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই বৈঠকে ঠিক হবে, এবারের ডাকসু নির্বাচনে কারা প্রার্থী ও ভোটার হবেন।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, যত দূর মনে পড়ছে, আদালত ১৫ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আমরা ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন শেষ করতে চাই। সে লক্ষ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গঠনতন্ত্র সংশোধন, আধুনিকায়ন ও হালনাগাদে ১০ জানুয়ারি ছাত্রনেতাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া হবে। ধাপে ধাপে বাকি কাজগুলোও করা হচ্ছে।

২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ শিক্ষার্থীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি এক রায়ে ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন উচ্চ আদালত। ওই নির্দেশনার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়।

আদালতের নির্দেশনার ৭ মাসেও নির্বাচনের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিশ দেন রিটকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

পরে ৩১ অক্টোবর ‘ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে’ হলভিত্তিক শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হলের সঙ্গে সংযুক্ত ও আবাসিক মিলিয়ে ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৫০৯ জন ছাত্রী ও ২৩ হাজার ৯৮৪ জন ছাত্র।

তবে তখন ভিসি বলেছিলেন, এটি পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা নয়।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরের বছর যাত্রা শুরু করে ডাকসু। প্রথমে পরোক্ষ নির্বাচন হলেও শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে ডাকসু নির্বাচন শুরু হয় বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর।

ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ডাকসু এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা ছিলেন সামনের কাতারে।

সূত্র:যুগান্তর

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর