সোমবার ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ৩:৩৩ এএম


মামলার ফাঁদে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:২৩, ১১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১০:১০, ১২ জানুয়ারি ২০২০

চরফ্যাসনে মামলার জালে জড়িয়ে ঝুলে আছে ৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক পদের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের একটি করে পদেও কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা এ মামলা কবে নাগাদ নিষ্পত্তি হবে তাও বলতে পারছেন না স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন কিংবা সংশ্নিষ্ট শিক্ষকরা। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

সংশ্নিষ্ট শিক্ষকরা জানান, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশব্যাপী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হয়। প্রথম ধাপে জাতীয়করণ করা হয় ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে। একই বছরের জুলাইয়ে দ্বিতীয় ধাপের স্কুলগুলো জাতীয়করণ করা হয়। তৃতীয় ধাপের স্কুলগুলো জাতীয়করণ করা হয় ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে। প্রথম ধাপে জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়গুলোর দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষকদের অনেকেই পরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে গেজেটভুক্তির মাধ্যমে পদোন্নতি ও বেতন-ভাতা পেয়েছেন; কিন্তু প্রথম ধাপের কিছু স্কুলসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণকৃত স্কুলগুলোর দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষকদের ওই পদে পদোন্নতি না দিয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে গেজেটভুক্ত করে সহকারী শিক্ষকের বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষক পদে গেজেটভুক্তি ও বেতন-ভাতার জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব রিট পিটিশন দাখিল করা হয়।

রিট দাখিলকারী প্রধান শিক্ষকদের একজন জামাল উদ্দিন। চরফ্যাসনের আদর্শ মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক জানান, ২০১৭ সালে তারা হাইকোর্টে রিট করেছেন। রিটটি এখন শুনানির অপেক্ষায় আছে। চরমনোহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন জানান, ২০১৪ সালে তিনি রিট দাখিল করেছেন; কিন্তু এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

চরফ্যাসন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৃষিত কুমার চৌধুরী জানান, উচ্চ আদালতে রিট চলমান থাকায় এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটিতে পূর্বাবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা ছাড়া বিদ্যালয়গুলো প্রধান শিক্ষক পদ কিংবা কর্তব্যরত প্রধান শিক্ষকের দখলে থাকা সহকারী শিক্ষক পদে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সঠিক হবে না।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর