বৃহস্পতিবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৭:৩৫ পিএম


মানসম্মত শিক্ষার জন্যই বদলি ব্যবস্থা প্রয়োজন

কাজী আমজাদ হোসেন

প্রকাশিত: ২১:১১, ১৬ জানুয়ারি ২০২০  

ইদানিং আমার মনে হয় বদলি প্রত্যাশী বেশিকগনের জীবন পড়ে আছে অন্য কোথাও,তারা যেন অন্য কারো জীবন-যাপন করছে!! নিজের প্রত্যাশীত জীবন তথা কাঙ্ক্ষিত পরিবেশের অভাবে তাদের মন বিশ্বব্রক্ষান্ড ঘুরে বেড়ায়!!যা শিক্ষাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে বটে!!নিজ জেলা/উপজেলায় বদলি হতে পারলে বদলি প্রত্যাশী বেশিকগন তাদের আত্নাটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারত,জীবনকে খুঁজে পেত, নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য-কাজে ছন্দ ফিরে পেত।কর্মরত পরিবেশের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরনে এবং রাষ্ট্রের বিমাতাসুলভ কর্মকান্ডে বেশিক সমাজ ক্ষোভে ফুঁসছে।

লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রাণের দাবি বদলি।বদলি ব্যবস্থা চালু হলে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক তথা সকল স্তরের জনগণ উপকৃত হবে। একটি সুন্দর, আনন্দময় ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে।বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আটঘাট বেধে বসে থাকা একনায়কতন্ত্র দুর হবে। শিক্ষক নির্যাতন, ছাত্রছাত্রীদের প্রতি অবহেলা, তথাকথিত সিন্ডিকেট থেকে শিক্ষা তথা জাতিকে রক্ষা,পুনরুদ্ধার, পুনরুজ্জীবিত করতে বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা চালু একান্ত জরুরি। বদলি ব্যবস্থা শুধু শিক্ষকদের জন্য নয়,বদলি ব্যবস্থা হওয়া উচিত শিক্ষক, কর্মচারী, প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সকলের।

অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়া কিংবা বিনা অপরাধে চাকরিচ্যুত, শারীরিক মানসিক নির্যাতিত হওয়া তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা থেকে রক্ষা পেতে বদলি ব্যবস্থা চালু শুধু জরুরি নয় রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয়। পত্রিকার পাতায় যখন দেখি শিক্ষাগুরুকে কান ধরে উঠবস করানো, প্রিন্সিপালের মাথায় মল-মুত্র ঢেলে নির্যাতন, শিক্ষকদের মেরে থেতলে দেয়া এবং রড দিয়ে পিটিয়ে হাতপা ভেঙে দেয়া হয় তখন আমার মনে হয় আদিম যুগের দাসত্ব ও দাসপ্রথার কথা। ছাত্রছাত্রী যখন আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে কাতরায়, অঙ্গহানি হয়,মৃত্যু হয় কিংবা আত্মহননের পথ বেছে নেয় আমার মনে পরে ইতিহাসের পাতায় প্রাপ্ত আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের কথা। সমস্ত প্রথা,উপপ্রথা কিংবা প্রথার প্রথা রোধে আধুনিক মানসম্মত ও যোগউপযোগি শিক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে দ্রুত বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা চালু একান্ত জরুরি।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা শতভাগ বেতন পেলেও আনুসাঙ্গিক অন্যান্য ভাতা খুবই কম,অধিকাংশ ভাতা পাচ্ছেন না তার উপর আবার অতিরিক্ত কর্তন। সব মিলিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেন। তাই বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন এবং অসন্তোষ পরিলক্ষিত হচ্ছে ফলে পাঠদানে বিঘ্নিত হচ্ছে, ছাত্রছাত্রী ও জনগণ ভোগান্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে। তাই বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষকরা যখন মায়ের কুলে ফিরে যাবে, পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতে পারবে তখন প্রাপ্ত বেতনে ডালভাত খেয়েই পাঠদান সন্তুষ্টচিত্ত করতে পারবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মানসিক ব্যাঘাত ঘটবে না,অসন্তোষ থাকবে না।সরকার, জনগণ, ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবে। আন্দোলন অনেকাংশ হ্রাস পাবে, পাঠদানের গতি বৃদ্ধি ও আনন্দময় পরিবেশ সর্বদা প্রফুল্লচিত্তে বিরাজমান থাকবে।

দ্রুত এই অপব্যবস্থার অবসান না হলে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় ভাটা পড়বে এবং উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মানে বড় ধরনের হোঁচট খাবে নিশ্চিত।যেহেতু জাতি গড়ার কারিগর খ্যাত বেশিক সমাজের হাতেই সেই গুরু দায়িত্বের ৯৫ ভাগ ন্যস্ত।
সরকারের সংশ্লিষ্ঠ কর্তাব্যাক্তি/মহোদয়গণের সচেতন সু-দৃস্টি একান্ত কাম্য।


লেখক : জেলা সমন্বয়ক ও সদস্য(কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি),
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি বাস্তবায়ন কমিটি।

 


এডুকেশন বাংলা / এস আই

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর