সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৬:১৫ এএম


মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গলদ কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:০৩, ২৮ মে ২০১৯   আপডেট: ১১:০৫, ২৮ মে ২০১৯

বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও সমমান শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় ত্রুটি হইল শিক্ষকগণ এই স্তরের ক্লাসে ঠিকমতো সিলেবাস সম্পূর্ণ করিতে পারেন না। তাহাদের হাতে এতই অপর্যাপ্ত সময় থাকে যে, শেষপর্যন্ত তাড়াহুড়া করিয়া এবং দায়সারাভাবে সিলেবাস শেষ করিতে হয়। এইভাবে জোড়াতালি দিয়া শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায়টি পার হইতে পারে না। আমাদের শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হইবার ইহাও অন্যতম কারণ। মূলত অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা মাত্রাতিরিক্ত ছুটি-ছাঁটা ও পরীক্ষার কারণে বত্সরের ছয় মাসই বন্ধ থাকিতেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আটমাসও বন্ধ থাকে। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, এইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বত্সরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ১৩৭ দিন বন্ধ থাকে। তন্মধ্যে ৮৫ দিন সরকারি ছুটি এবং ৫২ দিন সাপ্তাহিক ছুটি রহিয়াছে। যেইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এইচএসসি, এসএসসি, জেএসসি বা সমমানের পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহূত হয়, সেইখানে আরো একমাসের বেশি সময় ক্লাস করা হইতে বঞ্চিত হয় শিক্ষার্থীরা। এইরূপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আড়াই হাজার হইতে সাড়ে তিন হাজার। যেই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, সেইখানকার অবস্থা আরও করুণ। সেইখানে প্রায় ২৩০ দিনই ক্লাস হয় না। ইহাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও কয়েক দিন বন্ধ থাকে অনেক স্কুল-মাদরাসা। সব মিলাইয়া ইহা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ এক সংকট হিসাবে দেখা দিয়াছে।

যথাসময়ে সিলেবাস শেষ করিতে না পারায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম হইতে অর্জন করিতেছে ভাষা ভাষা জ্ঞান। অথচ তাহাদের ভালো রেজাল্ট করা প্রয়োজন। এইজন্য শিক্ষার্থীদের কোচিং ও প্রাইভেট নির্ভরশীলতা ক্রমবর্ধমান। ইহাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর সৃষ্টি হইতেছে অপ্রত্যাশিত চাপ। বাড়িয়া যাইতেছে লেখাপড়ার ব্যয়ও। তাই বত্সরে কী করিয়া ক্লাস বেশি নেওয়া যায় সেই ব্যাপারে গভীর চিন্তা-ভাবনা প্রয়োজন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এইজন্য সরকারি ছুটি এবং পরীক্ষার সময় ও সংখ্যা কমাইবার কোনো বিকল্প নাই। তাহারা বার্ষিক ছুটি শুক্রবার বন্ধের দিনসহ মোট ১১৮ দিন করিবার প্রস্তাব দিয়াছেন। বত্সরে শুধু মিডটার্ম বা অর্ধবার্ষিক এবং বার্ষিক এই দুইটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হইবে। তাহাছাড়া ২০ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা শেষ করিতে হইবে। এই প্রস্তাব বহুদিনের হইলেও তাহাতে কোনো সাড়া পাওয়া যাইতেছে না। অথচ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গলদ দূর করিতে হইলে এই মৌলিক বিষয়ের সমাধান একান্ত প্রয়োজন।

সরকারি ছুটি এবং বিভিন্ন পরীক্ষার সংখ্যা ও সময় কমাইবার গুরুত্ব অস্বীকার করিবার উপায় নাই। তবে যেসব শিক্ষপ্রতিষ্ঠান পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত ক্লাস করা হইতে বঞ্চিত হয়, সেখানে বিকল্প উপায় বিবেচনা করাও বাঞ্ছনীয়। বিশেষত ৪৯১টি উপজেলায় পৃথকভাবে পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ করিতে পারিলে এই সংকটের অবসান হইবে। প্রতি চার হাজার ছাত্রছাত্রীর জন্য নির্মাণ করিতে হইবে একটি পরীক্ষাকেন্দ্র । এইজন্য কোনো কোনো উপজেলায় একাধিক কেন্দ্রও তৈরি করিবার দরকার হইবে। এইসব কেন্দ্র অন্যসময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকুরীর পরীক্ষা, মিলনায়তন এমনকি বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্যও ব্যবহার করা যাইতে পারে। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় তাহা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।

সৌজন্যে: ইত্তেফাক

এডুকেশন বাংলা/ এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর