শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:৫০ পিএম


মাধ্যমিকে সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কেনো প্রয়োজন?

মো. সোয়ায়েব হোসেন

প্রকাশিত: ১১:১৪, ২৯ আগস্ট ২০১৯  

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে ৮০% ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০% ভাগ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে লোকবল পূরণ হয়। 

ইদানিং একটা তৎপরতা দেখতে পাচ্ছি যে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকগণ ২০% ভাগ সরাসরি নিয়োগের বিরোধিতা করছেন। যুক্তি হিসেবে তাঁরা উপস্থাপন করছেনঃ

• ১. কলেজের অধ্যক্ষ সরাসরি নিয়োগ হয় না, তাহলে হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কেন হবে
• ২. এবং ইত্যাদি (কিছু আবেগপ্রবণ গৌণ যুক্তি। যেমন, কনিষ্ঠদের অধীনে চাকুরী করা সন্মানহানীকর।)
এক্ষেত্রে তাঁদের যুক্তি খণ্ডনযোগ্য। আমরা বলতে পারিঃ

• ১. সহকারী শিক্ষক পদটি একটি বদ্ধপদ (Blocked Post)। এখান থেকে বড়জোর ৮-৯% ভাগ শিক্ষক পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হতে পারেন। যদি ২০% ভাগ সরাসরি নিয়োগ বন্ধও করা হয়, ১০০% ভাগ পদোন্নতিতে সমগ্র শিক্ষকের অংশ হবে আনুমানিক ১০-১১%। অবশিষ্ট শিক্ষকগণ কোনদিনই প্রধান শিক্ষক হতে পারবেন না। আর এতে, নিচের স্তরের শিক্ষকদের মধ্যে এ অধিদপ্তরের মাধ্যমিক বিভাগে চাকরি করার মানসিক শক্তি প্রথম থেকেই হারিয়ে ফেলবেন ৯০-৮৯% ভাগ শিক্ষক।

• ২. কলেজ অধ্যক্ষ সরাসরি নিয়োগ হয় না। সহযোগী অধ্যাপক/ অধ্যাপকদের মধ্যে থেকে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়। এতে কিন্তু যে সহযোগী অধ্যাপক /অধ্যাপক অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেলেন না, আর্থিকভাবে তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হন না। কেননা, ওই অধ্যক্ষ আর অধ্যাপকের বেতন একই। কিন্তু মাধ্যমিকে এ ধরনের সুযোগ আছে কী? না-নেই। পদোন্নতির মাধ্যমে যারা প্রধান শিক্ষক হবেন তাঁরা বেতন বেশি পাবেন, আর যারা একই ব্যাচের হওয়া সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক হতে পারবেন না তারা বেতন কম পাবেন।

• ৩. আজ যারা ২০% ভাগ সরাসরি নিয়োগের বিরোধিতা করছেন, অতীতে তারাও কিন্তু সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং ব্যর্থ হয়েছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক কিংবা প্রধান শিক্ষক হতে। তাদের আজকের এই বিরোধিতা কেবল ব্যক্তি স্বার্থকেন্দ্রিক ; সামগ্রিক চিন্তা তারা করছেন না। নিজেরা অতীতে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও আজকে তারা বিরোধিতা করছেন কোন বিবেচনায়!!!

আমাদের প্রস্তাব
বৈষম্যের এই দিকটি সার্বিকভাবে সংশোধন হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরোনো নিয়ম তথা ২০% ভাগ সরাসরি নিয়োগ বহাল রাখা হোক। এতে কনিষ্ঠ চাকুরীজীবিরা কর্মে উদ্দীপনা পাবেন। সরাসরি নিয়োগ বাতিল হলে তরুণ মেধাবীরা এই চাকুরীতে নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, শুধু মাধ্যমিকে নয়, সরকারি চাকুরির অন্যান্য বিভাগে ২০-৫০% নিয়োগ সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বিচার বিবেচনা প্রসূত দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর