বৃহস্পতিবার ২৩ মে, ২০১৯ ১০:৩৯ এএম


মাধ্যমিকের সহকারি প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক কি ক্যাডারভুক্ত?

আফতাব তাজ

প্রকাশিত: ১৩:১৬, ৮ মে ২০১৯   আপডেট: ১৯:৪৪, ৮ মে ২০১৯

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক পদ দুটি ক্যাডারভুক্ত কি না এ নিয়ে চলছে আলোচনা। আর এ আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরই  । পর্যালোচনায় দেখা গেছে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনের শিরোনামে `বিসিএস` (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত পদের কথাটি উল্লেখ করা হতো। হঠাৎ ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে কোনো প্রজ্ঞাপনে `বিসিএস` (সাধারণ শিক্ষা) কথাটি আর উল্লেখ করা হয়না। 

 এরপরই সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত বা গেজেট ছাড়া প্রজ্ঞাপনে একটি পদমর্যাদা উল্লেখ না করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকরা। আবার এও প্রশ্ন উঠেছে এ পদগুলো যদি `বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত` না হয় তাহলে কেনো পূর্বের প্রজ্ঞাপনগুলোতে এ পদগুলোকে ক্যাডারভুক্ত বলে উল্লেখ করা হতো। এ নিয়ে শিক্ষা ক্যাডার এবং সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি । ফেসবুকে বিভিন্নগ্রুপে চলছে যুক্তি তর্ক বিতর্ক।

আসলেই কি সরকারি মাধ্যমিকের সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকপদ্গুলো ক্যাডারভুক্ত? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে কয়েকদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছে `এডুকেশন বাংলা` ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে ১৯৮০  খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে শিক্ষা ক্যাডারের সৃষ্টি। বাংলাদেশ সরকারের গেজেট অনুযায়ি সৃষ্টিকাল থেকেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকের দুটি পদই ক্যাডারভুক্ত ।

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/1980 gezette120190508062743.jpg

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/198020190508062825.jpg

১৯৮৬  খ্রিস্টাব্দের এক প্রজ্ঞাপনে দেখা যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শাখা প্রধান কর্তৃক প্রধান মহা হিসাবরক্ষক বরাবরে লিখিত সেলফ ড্রইং ক্ষমতা সংক্রান্ত এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন `সরকারি মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষকগণ যে নিয়মে বেতন বিলে স্বাক্ষর করিতেছেন অনুরূপ নিয়ম তাহাদের(সহকারি প্রধান শিক্ষকগণ) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে। উল্লেখ্য, সহকারি প্রধান শিক্ষক তাহারা প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস( শিক্ষা: সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত।

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/198620190508062956.jpg

এমনকি ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জানুয়ারি সংস্থাপন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত গেজেটেও মাধ্যমিকের সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষককে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি পদ শতকরা ৮০ভাগ পদোন্নতি এবং ২০ ভাগ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের কথাও উল্লেখ রয়েছে। যা ১৯৮০  খ্রিস্টাব্দের গেজেটেও উল্লেখ ছিলো।

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/geget2010120190508063242.jpg

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/geget2010 220190508063316.jpg

দেখা গেছে, ২০১৫  খ্রিস্টাব্দে জুলাই মাসে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায়ও প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা অফিসারকে `বিসিএস সাধারণ শিক্ষা` ক্যাডারভুক্ত উল্লেখ করে বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় ষষ্ঠ গ্রেডে কর্মরত ২১ জন প্রধান শিক্ষক, ১৭ জন প্রধান শিক্ষিকা এবং ৩৬জন জেলা শিক্ষা অফিসারকে ৫ম গ্রেডে সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা হয়। যে কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম (এনআই খান) এবং অপর ৬ জন সদস্যের মধ্যে মাউশির তৎকালীন মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন, পরিচালক (মাধ্যমিক) এলিয়াছ হোসেন ও ছিলেন।

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/1n ikhan20190508063500.jpg

তবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক অথবা সমমর্যাদার কমকর্তাগণ এজন্য মাউশি কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কোনো অভিযোগ প্রদান কিংবা আক্ষেপ করেছেন বলেও জানা যায়নি। অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে কোনো কোনো সহকারি শিক্ষক এ বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

অপর দিকে সরাসরি যারা বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে সরকারি কলেজের প্রভাষক অথবা সমমর্যাদার পদে যোগদান করেন তাদের ধারণা বিসিএস পরীক্ষা ছাড়া পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষকরা ক্যাডারভুক্ত হতে পারেন না।

কথা বলে জানা গেছে শিক্ষা ক্যাডারের ক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষা ছাড়াও আরেকটি মাধ্যেমে অর্থাৎ পদোন্নতির মাধ্যেমেও যে ক্যাডারভুক্ত হওয়া যায় অধিকাংশ শিক্ষা ক্যাডার বা অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তাদের কাছে বিসিএস ক্যাডার মানে `কত তম"। অর্থাৎ কততম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ক্যাডারভুক্ত হয়েছেন-তা তারা জানতে চান।

২০১৭  খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে বেতন স্কেল সংক্রান্ত প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনের শিরোনামে দেখা গেছে সেখানে লেখা হয়েছে `মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কমর্রত `বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত` নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষকগণকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ি তাদের নামের পাশে বর্ণিত তারিখ হতে চতুর্থ গ্রেডের বেতন স্কেল প্রদান করা হলো।` তালিকায় প্রথমে পাবনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ উদ্দিন-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/2017pabna20190508062531.jpg

অপর দিকে, ২০১৯  খ্রিস্টাব্দের ১৫ এপ্রিলে প্রকাশিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের শিরোনামে লেখা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কমর্রত উল্লেখিত কর্মকর্তা/কর্মকর্তাবৃন্দকে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে নিজ নিজ বেতন স্কেল ও বেতনক্রমে বদলিভিত্তিক পদায়ন করা হলো।’ সেখানে তালিকার প্রথমে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোজিনা আক্তার-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/2019golam farooq20190508062702.jpg

উপর্যুক্ত এই বদলির প্রজ্ঞাপনের শিরোনামে `বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত` বাক্যটি উল্লেখ করা হয়নি। ২০১৮  খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত বিভিন্ন পরিপত্র কিংবা প্রজ্ঞাপনেও `ক্যাডারভুক্ত` বাক্যটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু পরিপত্রের উল্লেখ না করার মাধ্যমে একটি গেজেটভুক্ত পদমযার্দাকে অমর্যাদা করা নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষকদের ধারণা কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পদের মর্যাদাকে অস্বীকার করতে চায়। আবার কেউ বলছেন কোনো কোনো কর্মকর্তাদের অগোচরে অথবা অজানার কারণেই এমনটা হচ্ছে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর