মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ৮:২৬ এএম


মাদ্রাসার সহকারি গ্রন্থাগারিকদের এমপিওভূক্তি কবে হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৪৬, ২২ জুলাই ২০১৮  

মাদ্রাসার শিক্ষায় এখনো অনেক বৈষম্যই রয়ে গেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল দাখিল ও আলিম মাদরাসায় নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারি গ্রন্থাগারিকদের এমপিওভূক্ত না করা। মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিকের ন্যায় দাখিল ও আলিম মাদ্রাসায় সহকারি গ্রন্থাগারিক নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর একটি পরিপত্র জারি করে। এ পরিপত্রের (ঘ) ক্রমিক নম্বরে বলা হয়-“মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিকের ন্যায় দাখিল ও আলিম মাদরসায় সহকারি গ্রন্থাগারিক পদ অন্তর্ভূক্ত করা হল”। ফলে দাখিল ও আলিম মাদরাসায় সহকারি গ্রন্থাগারিক পদে লোক নিয়োগ আরম্ভ হয়।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল আর একটি পরিপত্র জারি করে দাখিল ও আলিম মাদরাসায় সহকারি গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ বন্ধ করা হয়। এ পরিপত্রে বলা হয়-“উল্লিখিত জনবল নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, বেতন কাঠামো নির্ধারণ ও নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত এ সকল পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না”। কিন্তু অদ্যাবধি সে বিষয়টির কোন সুরাহা হয়নি। প্রথম পরিপত্রের পর বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিকরা বেতন-ভাতার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদনও করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা এমপিওভূক্ত হতে পারেনি। এখানে তাদের চাকরি না হলে হয়তবা তারা অন্যত্র চাকরি খুঁজতেন। আশায় আশায় থেকে তাদের সে পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে। সন্তান-সন্তুতি নিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

দাখিল মাদরাসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং আলিম মাদরাসা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের সমপর্যায়ভূক্ত । কিন্তু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি গ্রন্থাগারিকের প্রয়োজন আছে কিন্তু দাখিল মাদরাসায় প্রয়োজন নেই, এটি বোধগম্য নয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সাথে সংশ্লিষ্ট বইগুলো সংরক্ষণ এবং বিতরণ ও সংগ্রহের প্রয়োজন আছে কিন্তু মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বইগুলোর ক্ষেত্রে সেধরনের প্রয়োজনীয়তা নেই! নাটক, উপন্যাস, গল্প ইত্যাকার বইগুলো খুব মূল্যবান, কিন্তু মাদ্রাসার বইগুলো কি মূল্যবান নয়? বরং মাদরাসার বইগুলোর জন্য একজন সহকারি গ্রন্থাগারিকের বেশি প্রয়োজন। কারণ মাদরাসার বইয়ের কলেবর অনেক বড়। দামও অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ-‘তারীখু মাদীনাতু দিমাশক’ নামক বইটি ৭০ খণ্ড বিশিষ্ট, দাম প্রায় ২৮ হাজার টাকা। অনুরূপভাবে একটি গ্রন্থের নাম ‘সিয়ারু আলামুন নুবালা’, এটি ২৮ খণ্ডে সমাপ্ত। এর মূল্য প্রায় এগারো হাজার টাকা। ‘লিসানুল আরাব’ নামক আরবি অভিধান গ্রন্থ ২২ খণ্ড বিশিষ্ট, এর মূল্য প্রায় নয় হাজার টাকা। কাজেই মাদরাসায় সহকারি গ্রন্থাগারিকের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, শত প্রতিকূলতা সত্বেও এ সরকার দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সফলতার পরিচয় দিয়েছে। দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন দেশে ও বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এম.ডি.জি) অর্জনে সরকার সফল হয়েছে। কাজেই এ সরকারের পক্ষে দাখিল ও আলিম মাদরাসার সহকারী গ্রন্থাগারিকদের বেতন-ভাতা চালু করা মোটেই দুরুহ কোন বিষয় নয়। অচিরেই নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারি গ্রন্থাগারিকদের এমপিওভূক্ত করা হবে এবং পুনরায় পরিপত্র জারি করে দাখিল ও আলিম মাদরাসায় সহকারি গ্রন্থাগারিক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করা হবে- শিক্ষা ও শিক্ষক বান্ধব সরকারের নিকট এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বিষয়টি সুবিবেচনায় নেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানন্ত্রীর কৃপাদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর