শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:৪৯ পিএম


মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:১৭, ৩১ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ০৯:০৯, ৩১ আগস্ট ২০১৯

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার পৌরসভার পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমামের কক্ষ থেকে আজ ৩০ আগস্ট শুক্রবার বাদ জুম’আর নামাজের পর আব্দুল্লাহ আল নোমান (৫), রিফাত হোসেন (১২) ও ইব্রাহিম খলিল (১৫) নামে তিন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর লা’শ উ’দ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখানো কাউকে আটক করা হয়নি। লা’শ ময়নাত’দন্তের জন্য চাঁদপুর ম’র্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে ওই মসজিদের ইমাম তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমানকে রেখে নামাজ পড়াতে যান। ওই শিশু সন্তানের সাথে আরো ২ জন শিশু-কিশোর প্রবেশ করে ইমামের রুমে। নামাজ শেষে ইমাম নিজের রুমের দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় মুসল্লি শাহীন সরকার, সাইফুল, সুমন মোস্তফাসহ একাধিক ব্যক্তি দরজা ভেঙ্গে ইমাম ও মুসুল্লীদের উপস্থিতিতে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং ৩ শিশু-কিশোর অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। এদের দু’জন ঘটনাস্থলে মারা গেছে । একজনকে মতলব হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকেও মৃ’ত ঘোষণা করে।

ইমাম জামাল উদ্দিন জানান, জুম’আা নামাজের আগে বেলা পৌনে ১টায়’র সময় আমি বয়ান ও খুদবার জন্য মীমবরের দিকে যাই। নামাজ পড়ানো শেষে সমজিদে মিলাদ পড়িয়ে নিজের রুমে ফিরে আসি। ওই সময় আমার রুমের দরজা ভিতর থেকে আটকানো দেখে অনেক ধাক্কা-ধাক্কি করি। পরে মুসল্লিদের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে দেখি আমার ছেলেসহ অপর দুই শিশু-কিশোর অচেতন হয়ে বিছানায় পড়ে আছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দুই মাস পূর্বে মসজিদের ইমাম হিসেবে মাওলানা জামাল উদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায়। সেই থেকে তার শিশু সন্তানসহ আব্দুল্লাহ আল নোমান ওই কক্ষে বসবাস করতো। পরে এক মাস পূর্বে মসজিদ সংলগ্ন মুক্তা ভিলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের বাড়ি বরগুনা জেলার কালাই মুদাফাত গ্রামে। এর আগে তিনি চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোডে জামে মসজিদে ইমামতি করতেন। এদিকে মৃ’ত ইব্রাহিম ও রিফাত মতলব পৌরসভার ভাঙ্গাপাড় মাদরাসার ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। রিফাতের বাবা মতলব পৌরসভার নলুয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন ও ইব্রাহিম খলিলের বাড়ী দশপাড়া তার পিতা আফসার উদ্দিন।

মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একেএম মাহাবুর রহমান বলেন, মৃ’ত ঐ তিন শিশু কিশোরের মুখ থেকে শুধু ফেনা বের হচ্ছিল। ফুড প্রয়োজিং বা অন্য কোন কারণে তাদের মৃ’ত্যু হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে পারছি না।

মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচ বলেন, ঘটনাস্থল ও কক্ষটি পর্যবেক্ষণ করেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। এ মু’হুর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল করিম পিপিএম বলেন, এখনও কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফুড প্রয়োজিং বা অন্য কোন কারণে মৃ’ত্যু হতে পারে। ত’দন্ত কার্যক্রম চলছে। পোস্টমর্টেমের পরে কারণ জানা যেতে পারে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর