মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:১৮ পিএম


মাদ্রাসাছাত্রীকে ২ শিক্ষকের ধর্ষণ

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:০০, ৪ অক্টোবর ২০১৯  

যশোরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে দুই শিক্ষক মিলে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের পর অচেতন ঐ ছাত্রীকে খোলা জায়গায় ফেলে পালিয়েছেনঐ  দুই শিক্ষক। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় অভিভাবকরা খোঁজাখুঁজি করে মাদ্রাসার শৌচাগারের পাশের খোলা স্থান থেকে ঐ ছাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। মণিরামপুর উপজেলার ঝাপা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

লোকলজ্জার ভয়ে অভিভাবকরা এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করেননি। ওই ছাত্রী তিনদিন মাদ্রাসায় না যাওয়ায় বৃহস্পতিবার এক শিক্ষক তার বাড়িতে খোঁজ করতে গেলে ঘটনা জানতে পারেন এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকসহ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ওই দুই শিক্ষকের একজনকে গণপিটুনি দেয়। তবে তাকে আটক করা যায়নি। অপরজন আগেই পালিয়ে যায়।

এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসার অফিসে তালা দিয়ে শিক্ষকদের প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে বিকালে প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা ওই মাদ্রাসায় গিয়ে রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মনিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ঝাপা মোড়লপাড়ার এক কৃষকের দাখিল পরীক্ষার্থী মেয়েসহ কয়েকজন ছাত্রী প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মাদ্রাসায় কোচিং ক্লাশ করে রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফিরে যায়।

তিনি বলেন, গত সোমবার রাতে মাদ্রাসায় কোচিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী মৌলভী শিক্ষক নজরুল ইসলাম এবং কৃষি শিক্ষক তরিকুল ইসলাম। আর কোচিং ক্লাশ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন মাদ্রাসা সুপার শাহাদাৎ হোসেন।

ওই সময় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক ছাত্রীকে কক্ষে রেখে বাকিদের ছুটি দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ, এরপর শিক্ষক তরিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম মাদ্রাসার একটি কক্ষের মধ্যে ওই ছাত্রীকে পালা করে ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে রক্তাক্ত ওই ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে শিক্ষক দুইজন তাকে মাদ্রাসার বাইরে শৌচাগারের পাশে ফেলে রেখে চলে যান।

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর