সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০:০১ এএম


মাদরাসাছাত্রীকে তিনদিন আটকে রেখে দল বেঁধে ধর্ষণ

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:৩৭, ৩১ অক্টোবর ২০১৯  

 

প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে মাদরাসাছাত্রীটি যখন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থেকে গাজীপুরের টঙ্গীতে এসে পৌঁছে তখন রাত ১টা। এর পরই কয়েক যুবক তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। ওমর মেয়েটির প্রেমিককে ডেকে এনে পিটিয়ে টাকা আদায় করলেও মেয়েটিকে ছাড়েননি। বরং মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বন্ধু হকার মো. আলমের বাসায় নিয়ে রাখেন। সেখানে আলম মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন।

পরদিন সকালে উদ্ধারের কথা বলে অসুস্থ মেয়েটিকে নিজ বাসায় নিয়ে দুই দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন ওমর। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মেয়েটিকে গত মঙ্গলবার সকালে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান ওমর। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করে।

লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায়। পুলিশ মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ ও এতে সহযোগিতার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ধর্ষণে অভিযুক্ত মাছিমপুরের মো. আলম (৩৪), ধর্ষণে সহায়তাকারী মাহিন আহম্মদ (২০), আলমের মামি হোসনা আক্তার (৩২) ও মেয়েটির প্রেমিক মাঈন উদ্দিন (২২)।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, মো. আলম টঙ্গীর স্টেশন রোডে ফুটপাতে হকারি করেন। হকারদের নেতাও তিনি। ওমর ফারুক বখাটে সন্ত্রাসী। অপকর্মের কারণে পরিবার তাঁকে ত্যাজ্য করেছে। আর মাহিন গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

ছাত্রীটির (১৫) সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয় থেকে প্রেম হয় মাঈন উদ্দিনের। এ সূত্রে মাঈনের সঙ্গে দেখা করতে মঙ্গলবার টঙ্গী এসেছিল সে।

পুলিশ জানায়, মাঈনকে ছাত্রীটি আগে দেখেনি। মাঈন টঙ্গীতে একটি বেকারিতে কাজ করেন। পরিবারকে সহায়তা করতে চাকরির জন্য মাঈনের সাহায্য চায় ছাত্রীটি। গত শনিবার মাঈনের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে রওনা দেয় সে। পথে যানজটের কারনে টঙ্গী পৌঁছতে রাত ১টা বেজে যায়। মধুমিতা সড়কে নেমে মাঈনের জন্য অপেক্ষা করার সময় কয়েক যুবক তাকে টেনেহিঁচড়ে গলিতে নিয়ে ওমরের হাতে তুলে দেন।

ওমর মোবাইল ফোনে মাঈনকে ডেকে আনেন এবং মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় মাঈনকে বেধড়ক পেটানও। পরে মাঈন পাঁচ হাজার টাকা জোগাড় করে এনে দিলেও ওমর মেয়েটিকে ছাড়েননি। ওমর ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েটিকে আলমের মাছিমপুরের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে খালি বাসায় তাঁর মামির সহায়তায় আলম মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। রবিবার সকালে সেখানে যান ওমর। তখন অসুস্থ মেয়েটিকে উদ্ধারের কথা বলে তাঁর সঙ্গে যেতে বলেন ওমর। সে খুব ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত ছিল। পানি খাওয়ার পর তার আর কিছু মনে নেই। পরে চোখ মেলে দেখে, সে পুবাইল এলাকায় ওমরের ঘরে।

ওমর তাকে দুই রাত আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। উঠে বসার শক্তি ছিল না তার। রক্তপাত হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে মেয়েটিকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান ওমর। স্থানীয় লোকজন মেয়েটিকে উদ্ধার করে ও মাঈনকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ডেকে আনে। রাত ৮টার দিকে মেয়েটিকে টঙ্গী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা খারাপ থাকায় চিকিৎসকরা মেয়েটিকে শহীদ তাজউদ্দীন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ মাঈনকে আটক করে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ দাস জানান, ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলমত পাওয়া গেছে। মেয়েটি খুবই অসুস্থ। সে স্বাভাবিকভাবে বসতে, এমনকি ঠিকমতো কথাও বলতে পারছে না।

টঙ্গী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, এটি একটি জঘন্য পাশবিক ঘটনা। মেয়েটির প্রেমিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলম ও সহায়তাকারী অন্যদের আটক করা হয়। পালিয়ে যাওয়ায় ওমরকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মেয়েটির পরিবারকে রাতেই খবর দেওয়া হয়। গতকাল সকালে মেয়ের মা পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। জড়িত অন্যদের পরিচয় জানতে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। ছাত্রীকে হাসপাতালে পুলিশের প্রহরায় রাখা হয়েছে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর