রবিবার ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:১৩ পিএম


মাতৃভাষায় অবদানে আন্তর্জাতিক পদক দেবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২৬, ২৫ জুন ২০১৯  

জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মাতৃভাষা সংরক্ষণ, বিকাশ ও গবেষণাসহ মাতৃভাষাসংক্রান্ত বিশেষ অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক পদক চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক নীতিমালা, ২০১৯’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’ নামে নতুন পদক চালু করা হচ্ছে। জাতীয় ক্ষেত্রে দুটি ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দুটি পদক প্রতি দুই বছর অন্তর দেওয়া হবে। পদকের মূল্যমান ধরা হয়েছে জাতীয় ক্ষেত্রে চার লাখ টাকা, আর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার ডলার। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের নেতৃত্বে একটি বাছাই কমিটি থাকবে। আর মনোনয়ন কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী। একুশে ফেব্রুয়ারি সামনে রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, বর্তমানে দেশে প্রচলিত একুশে পদকের মূল্যমান চার লাখ টাকার কম। আগামী দিনে এটা বাড়ানো হবে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশি জাহাজের ব্যবসা সুরক্ষায় নতুন আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার, এতে এসব জাহাজে ৫০ শতাংশ পণ্য পরিবহনের বিধান রাখা হয়েছে। আগে ছিল ৪০ শতাংশ। গতকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (সুরক্ষা) আইন, ২০১৯’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। শফিউল আলম বলেন, পতাকাবাহী জাহাজ বলতে বাংলাদেশে নিবন্ধিত জাহাজকে বোঝানো হয়েছে। কোনো জাহাজ এই আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে ওই জাহাজ কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা করা যাবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বাংলাদেশে ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১৯’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে। খসড়া বাংলাদেশে ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) আইন অনুযায়ী বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম হবে, বছরে দুইবার সভা করতে হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রীর দায়িত্বে যিনি থাকবেন তিনি হবেন বোর্ডের চেয়ারম্যান। ২০ সদস্যের পরিষদ হবে। সদস্যদের মেয়াদ তিন বছর।’

এদিকে গত রবিবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) জনপ্রশাসন নিয়ে প্রকাশিত ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার : নীতি ও চর্চা’ শীর্ষক গবেষণায় সরকারি পদায়ন ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে, মেধা উপেক্ষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে শফিউল আলম বলেন, রিপোর্টটি এখনো দেখিনি। প্রকাশিত সংবাদে যেটুকু আসছে তাতে মনে হচ্ছে তারা ঢালাও অভিযোগ করেছে।

১৯৭৯ সালের বিধি অনুযায়ী চাকরিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো কর্মকর্তাকে সম্পদের হিসাব দিতে হয়। এরপর প্রতি পাঁচ বছর পর পর এই তথ্য আপডেট করার কথা থাকলেও এটা হচ্ছে না কেন—এ প্রশ্নের উত্তরে শফিউল আলম বলেন, অনেক দিন চাওয়া হয়নি। চাওয়া হলে দিতে হবে। না চাইলে দেওয়ার কথা নয়। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় দেখে।

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সার্বিক উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত ‘আউটলুক-২০১৯’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, একই সঙ্গে বিশ্বের দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী পাঁচটি দেশের মধ্যেও বাংলাদেশ রয়েছে। মন্ত্রিসভায় উপস্থিত থাকা একটি সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অনির্ধারিত আলোচনায় মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো হয়। প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অর্জন আমাদের সবার। এটি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অর্জন। তাই অভিনন্দন দেশের মানুষের প্রাপ্য।’

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর