শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২০ ১০:৫০ এএম


মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যু বার্ষিকীতে সাবেক ছাত্রলীগের দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:১৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:২৩, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

বঙ্গবন্ধু`র ঘনিষ্ঠ সহচর, তিনবারের নির্বাচিত সাবেক সফল মেয়র, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, চট্টলবীর এবিএম. মহিউদ্দিন চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত ও তার পরিবার-পরিজনের সু-স্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

প্রয়াত এ মেয়রের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির, নির্বাচন কমিশন সমন্বয় উপ-কমিটির সদস্য খান মনিরুল ইসলাম পরশ জানান, মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের অন্যতম ধারক ও বাহক। তিনি আজীবন তার ভক্তকুলের মাঝে একজন আদর্শিক রাজনীতির প্রতীক হিসেবে বেঁচে থাকবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন হৃদয় জানান, বঙ্গবন্ধু’র একজন আস্থাভাজন ও আদর্শের সৈনিক ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। আর চট্টগ্রামবাসী ছিলেন তার আত্মার আত্মীয়। তিনি চট্টলার মানুষের জন্য আজীবন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। আর এজন্য-ই তিনি চট্টলবীর। নেতৃত্ব তৈরীর অন্যতম কারিগর ছিলেন মহান এই নেতা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি অমিত কুমার বসু জানান, চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সমাজ দর্শন এবং ব্যক্তিত্বের বিশালতা তাকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিল। আর বিগত কয়েক দশক জুড়ে চট্টগ্রামের আপমর সকল রাজনৈতিক ও সমাজ কর্মীদের শেষ ঠিকানা ছিল এই প্রতিষ্ঠান।

মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম, কৃষ্ণ গোপাল পাল, বেলাল নুরী, মীর মেজবাউর রহমান, সাজেদুল করিম অনিক, হারুন রশিদ, মিজানুর রহমান, আবু আনসারী সহ সাবেক ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাউজানের গহিরা গ্রামের বক্স আলী চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা প্রয়াত হোসেন আহমদ চৌধুরী ছিলেন রেলওয়ের সাবেক কর্মকর্তা, আর মা বেদুরা বেগম।

মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৬২ সালে এসএসসি, ১৯৬৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৬৭ সালে ডিগ্রি পাস করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং পরে আইন কলেজে ভর্তি হলেও ছাত্র আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ায় পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি তিনি।

চট্টগ্রামে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বন্দর রক্ষা আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯৪ সাল থেকে টানা তিনবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একজন সফল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রায় দুই যুগ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকার পর ২০০৬ সালের ২৭ জুন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এই নেতা।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকাকালীন ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বীর চট্টলার অবিসংবাদিত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

এডুকেশন বাংলা/ কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর