মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:১৮ পিএম


মসজিদে ছাত্রী ধর্ষণ, হুজুর পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৫৫, ৩ অক্টোবর ২০১৯  

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় মসজিদের মক্তবের একজন শিক্ষক কর্তৃক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পাঁচ বছরের এক মেয়ে শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে এ ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষক মনিরুল ইসলাম (৪০) গা ঢাকা দিয়েছেন। উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ভাঙার গ্রাম জামে মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিশু ও গণশিক্ষা কর্মসূচি পরিচালিত মক্তবে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষক মনিরুল ইসলাম উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ভাঙার গ্রামের মো. শুক্কুর আলীর ছেলে। তিনি বিবাহিত। অপরদিকে ধর্ষণের শিকার শিশুটি একই ইউনিয়নের ভাটির গ্রাম এলাকার দরিদ্র এক গার্মেন্টসকর্মী দম্পতির মেয়ে। ওই দম্পতি ঢাকায় থাকেন। পরিবারের অন্যান্য স্বজনরা শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাতে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ভাঙার গ্রাম জামে মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত শিশু ও গণশিক্ষা কর্মসূচির মক্তবে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে স্থানীয় অন্ততঃ ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত মসজিদের ভেতরে পাঠদান চলে। বুধবার ১০/১২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ওই মক্তবের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম কিছুক্ষণ পাঠদান করার পর অন্যান্য শিশুদের মসজিদের সামনের কামরাঙ্গা গাছ থেকে কামরাঙ্গা খাওয়ার কথা বলে মসজিদ থেকে বাইরে যেতে বলে। সহপাঠীরা বাইরে গেলে শিক্ষক মনিরুল ইসলাম পাঁচ বছর বয়সের এক মেয়ে শিক্ষার্থীকে মসজিদের ভেতরে কোনায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটির যৌনাঙ্গ দিয়ে রক্তপাত শুরু হয় এবং কান্নাকাটি শুরু করলে শিক্ষক মনিরুল ইসলাম কৌশলে ওই শিশুসহ সকল শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দ্রুত মসজিদ থেকে কেটে পড়েন। ঘটনার পর থেকেই ওই শিক্ষক গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন।

এদিকে ধর্ষণের শিকার শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়িতে গেলে তার স্বজনরা টের পান যে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। স্বজনরা তাকে নিয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় গেলে আগে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে স্বজনরা বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শিশুটিকে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের এক নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, অবুঝ এই শিশুটি হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। তার স্বজনরা বললেন, আজও শিশুটির রক্তপাত হয়েছে।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর