মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২০ ৫:১১ এএম


মতামত ছাড়াই পুরো বৈশাখী ভাতা কেটে ত্রাণ বিতরণ

শরীফুল আলম সুমন

প্রকাশিত: ১৩:০৪, ২৬ এপ্রিল ২০২০  

দেশের ক্রান্তিকালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অনেকেই এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিচ্ছেন। পিছিয়ে নেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও। তারাও তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তা- শিক্ষক-কর্মচারিদের একদিনের বেতন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সবার চেয়ে এগিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড। তারা সরকারি তহবিলে এক দিনের বেতন দিয়েছেন। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মতামত ছাড়াই পুরো বৈশাখী ভাতা কেটে রেখে ত্রাণ বিতরণ করছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান।

সূত্র জানায়, যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছেন। তারা নিজেদের সম্মতিতেই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার জন্য একদিনের বেতনের টাকা জমা দিয়েছেন। তবে তাদের মতামত ছাড়াই বৈশাখী ভাতা বাবদ প্রাপ্ত ৮ লাখ ২৯ হাজার টাকাও কেটে রেখেছেন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা আমির হোসেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান প্রধানের ঐচ্ছিক খাত থেকে দুই লাখ টাকা, উৎসব অনুষ্ঠান খাত থেকে সাড়ে চার লাখ টাকাসহ মোট ১৫ লাখ টাকার ফান্ড গঠন করেছেন চেয়ারম্যান।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, এক খাতের টাকা অন্য খাতেও খরচের সুযোগ নেই। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট খাতের সব টাকা খরচ না হলে তা মূল ফান্ডে ফেরতের বিধান রয়েছে।

জানা যায়, ১৫ লাখ টাকার জন্য ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাদের গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রতিদিন অফিস করতে হয়। মিটিং করতে হয়। এই টাকায় ইতিমধ্যে দু’দিন যশোর শহরে ৫০০ প্যাকেট ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রত্যেককে পাঁচ প্যাকেট করে ত্রাণ বিতরনের জন্য দেওয়া হয়েছে। আরো প্রায় এক হাজারের বেশি প্যাকেট ত্রাণ রোজার প্রথম সপ্তাহে বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

একাধিক কর্মচারির অভিযোগ, চেয়ারম্যানসহ বেশিরভাগ কর্মকর্তারাই নানা খাত থেকে বড় অংকের টাকা আয় করেন। তাদের জন্য বৈশাখী ভাতার পুরোটা দেওয়া কোনো ব্যাপার নয়। চেয়ারম্যান ইচ্ছে করলে নিজের টাকায় যত খুশি ত্রাণ বিতরণ করুক। কিন্তু আমাদের জন্য বৈশাখী ভাতার পুরোটা দেওয়া কষ্টকর। আর আমরা টাকা দিলে সেটা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিবো। আমাদের টাকায় কেন চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নিজের পছন্দমতো স্থানে ত্রাণ বিতরণ করবেন?

নাম প্রকাশ না করে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ত্রাণ কমিটিতে থাকায় প্রতিদিনই অফিসে আসতে হচ্ছে। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণঅ করলেও আমরা পাচ্ছি না। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই ত্রাণ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে প্রচণ্ড করোনা ঝুঁকিতে আছি।’

যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যান মোল্লা আমির হোসেন  বলেন, ‘সরকার যেহেতু বৈশাখী উৎসব করতে নিষেধ করেছেন, তাই আমরা বৈশাখী ভাতার পুরো টাকায় নিজেরাই ত্রাণ বিতরণ করছি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার জন্যও একদিনের বেতনের টাকা দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিতরণের জন্য প্রত্যেককে পাঁচ প্যাকেট ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। তাদের সম্মতি আছে বলেই তারা প্যাকেটগুলো নিয়েছেন।’ এক খাতের টাকা অন্য খাতে বিতরন করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেই খাত থেকে টাকা নিয়েছি সেই খাতে আমরা কম খরচ করে গ্যাপ পূরণ করবো।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা একদিনের যে বেতন দেওয়ার কথা বলেছি সেটা ঐচ্ছিক। অর্থাৎ কেউ চাইলে দিতে পারেন, আবার নাও পারেন। কিন্তু যশোর বোর্ডে পুরো বৈশাখী ভাতা কেটে নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ নিবো।’

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর