বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ৬:৫০ এএম


ভিসির দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত’ সংবলিত ৭০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:২৬, ৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৯:০৭, ৯ নভেম্বর ২০১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত’ সংবলিত ৭০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন গতকাল রাতে(৮ নভেম্বর)  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. আলিম খানের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারেক রেজা, অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান চয়ন ও অধ্যাপক ফজলুল করিম পাটোয়ারী। আন্দোলনরত শিক্ষকদের একজন অধ্যাপক ড. খবির উদ্দিন গত রাত সাড়ে ১১টায়এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সে অনুযায়ী আজ শনিবার বিকেল ৪টায় পটচিত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। পরে পটচিত্রটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে টানিয়ে দেওয়া হবে। এ সময় ‘উপাচার্যের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত’ বার্তাবাহকের মাধ্যমে রাতের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে আবাসিক হলগুলো বন্ধের প্রতিবাদে ও মেয়েদের আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবিতে হলগুলোর সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা। গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন শেষে কলা ও মানবিক অনুষদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রীতিলতা ও জাহানারা ইমাম হল সংলগ্ন স্থানে এসে শেষ হয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে দুপুর ১২টায় তাঁরা প্রতিবাদী পটচিত্রাঙ্কন শুরু করেন। পটচিত্রে ‘উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’, ‘উপাচার্যের দুর্নীতি’, ‘ছাত্রলীগের হামলা’, ‘টাকার মোহ’সহ বেশ কিছু বিষয়কে ব্যঙ্গ করে নানা মাত্রায় কার্টুন আঁকা হয়। অঙ্কন শেষে পটচিত্রটি সবার উদ্দেশে প্রদর্শন করা হয় এবং সেটি নিয়ে পুরনো প্রশাসনিক ভবন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। আন্দোলনকারীরা রাত পৌনে ১০টার দিকে অবস্থানস্থল থেকে সরে যান।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন এর আগে গতকাল বিকালে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপাচার্য ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হবে। নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণ এবং দুর্নীতিতে জড়িতদের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

তথ্য-উপাত্তে যা রয়েছে : আন্দোলনকারী এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর বক্তব্যে সাড়া দিয়ে আমরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত আমরা করেছি। আমাদের তৈরি তালিকায় উপাচার্য কর্তৃক টেক কমিটি গঠন, টেন্ডার ছিনতাই, উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিবের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ছাত্রলীগের চাঁদার টাকা ভাগ-বাটোয়ারা, উপাচার্যের স্বামীর পিএইচডিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভর্তি, স্কলারশিপ প্রদান ও ডিগ্রি প্রদান করাসহ উপাচার্যের বর্তমান ও অতীতের বেশ কিছু অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার তথ্য-উপাত্ত রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা তাঁর বাসভবন অবরোধ করে রাখেন। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিল থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করা হয়। এতে শিক্ষক, সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হন। হামলার ঘটনার পর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর