বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:০১ পিএম


ভিকারুননিসার সেই শিক্ষককে বরখাস্ত, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:১২, ২ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০১:০৮, ৩ নভেম্বর ২০১৯

কোচিং বাণিজ্যের তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখার সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) কানিজ ফাতেমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।  এ ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফওজিয়া রেজওয়ান বলেন, ‘তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্তের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এর আগে দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকের পর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুপুরে আজিমপুরের চায়না গলিতে অগ্রগামী কোচিং সেন্টারের কোচিং বাণিজ্য নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার পিংকি আক্তার ও ক্যামেরা পারসন মনজুর রহমানকে মারধর করা হয়। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমুপর শাখার সহকারী শিক্ষক কানিজ ফাতেমা ও তার লোকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে মারধরের শিকার হওয়া সাংবাদিকদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক খানকে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান।

শনিবার (২ নভেম্বর) থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা উপলক্ষে দেশের সব ধরনের কোচিং সেন্টার পরিচালনা নিষিদ্ধ রয়েছে। সরকারের এই নির্দেশ অমান্য করে আজিমপুর শাখার সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) কানিজ ফাতেমা নিয়মিত কোচিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

সময় টেলিভিশনের রিপোর্টার পিংকি আক্তার বলেন, ‘কোচিং বন্ধ থাকার পরও কানিজ ফাতেমা নিয়মিত কোচিং বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। এই ঘটনার একটি প্রতিবেদন করতে আজিমপুরে আগ্রগামী কোচিং সেন্টারে যাই। সেখানে কানিজ ফাতেমার বক্তব্য নিতে গেলে তিনি প্রথমে দৌড়ে পালিয়ে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যে তার মেয়ে ও নিজে ফিরে আসেন লোকজন নিয়ে। আমাদের মারধর করতে করতে টেনে হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয়। ভেঙে দেওয়া হয়ে ক্যামেরা।’

বিষয়টি নিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফওজিয়া রেজওয়ান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনা জানার পর সঙ্গে সঙ্গেই আজিমপুর শাখার প্রধানকে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়েছে। ’

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর