মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ১৫:২৫ পিএম


৩০-এ সাড়ে ৩ পাওয়া সেই প্রার্থী দুদকের বাছিরের স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৫৮, ১২ জুন ২০১৯   আপডেট: ১২:৩১, ১২ জুন ২০১৯

ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ পদে ৩০ এ সাড়ে ৩ পেয়েও নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত হয়েছিলেন রুমানা শাহীন শেফা। তিনি দুনীতি দমন কমিশনের (দুদক) সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া পরিচালক এনামুল বাছিরের স্ত্রী।

 সম্প্রতি এক আলোচিত ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বাছিরের নাম আসার পর আলোচনায় এসেছে ওই নিয়োগের বিষয়টিও। রুমানা যে বাছিরের স্ত্রী এটা জানার পর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, অভিভাবকরাও বিস্মিত হয়েছেন। বিস্মিত শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারাও।

অভিযোগ আছে, অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নিয়োগ কমিটি ও প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন গভর্নিং বডির কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক লেনদেরও অভিযোগ আছে। অভিযোগের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে শিক্ষামন্ত্রণালয়। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।

রুমানা শাহীন শেফা বর্তমানে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

জানা যায়, রুমানা শাহীনকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য ভিকারুননিসার গভর্নিং বডি একটি নিয়োগ কমিটি গঠন করে। গত ২৭ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষায় মোট ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে রুমানা শাহীনও পরীক্ষা দেন। সে পরীক্ষায় মাত্র সাড়ে ৩ নম্বর পান তিনি।

তবুও মৌখিক পরীক্ষায় ও অ্যাকাডেমিক পারফরমেন্সের মাধ্যমে তাকে পরীক্ষায় প্রথম করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় মাত্র তিন নম্বর পেয়ে ফেল করলেও মৌখিক পরীক্ষায় ও অ্যাকাডেমিক পারফরমেন্স মিলিয়ে রুমানা শাহীন শেফাকে ১৯ নম্বর দেওয়া হয়। সেই পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম পান ১৭ নম্বর।

এ ঘটনায় বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবকরা সব অনিয়ম দূর করা সহ ও অবৈধভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক শাহেদুলের শাস্তি দাবি করেন।

এজন্য অভিভাবকরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে গত ২ মে দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন।

অভিভাবকদের পক্ষে সেই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ভিকারুননিসায় যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও গভর্নিং বডির কতিপয় সদস্য আর্থিকভাবে লাভবানের উদ্দেশে তাদের পছন্দের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজির সহকারী অধ্যাপক রুমানা শাহীন শেফাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ নিয়োগের চেষ্টা করেন।

বিষয়টি অভিভাবকরা জানতে পেরে গত ২৫ এপ্রিল অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু মহাপরিচালক এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ২৬ এপ্রিল পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরীকে ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান।

খোরশেদ আলমের অভিযোগ, নিয়োগ কমিটি তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য উত্তরপত্রে ৩০ নম্বরের ১০টি প্রশ্নের মধ্যে ৭টি প্রশ্ন ইংরেজি ভাষায় উত্তর দেয়ার জন্য এবং ৩টি বাংলা ভাষায় উত্তর দেয়ার জন্য নির্ধারণ করেন। কিন্তু ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হওয়ার পরই পরীক্ষায় ফেল করেন রুমানা শাহীন শেফা।

লিখিত পরীক্ষায় এমন ফলাফলে তার যোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

এরপর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির (জিবি) সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষ নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অভিভাবকদের থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে (মাউশি) নির্দেশ দেয়া হয়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে লেখা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর