শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ১৩:০৬ পিএম


ভারতে শিক্ষানীতি প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৫:১৫, ২ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৫:১৮, ২ জুন ২০১৯

স্কুলগুলোতে হিন্দিকে আবশ্যিক তৃতীয় ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়ার একটি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে ভারতীয়রা।

কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে শুক্রবার জমা পড়া নতুন একটি খসড়া শিক্ষানীতি প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে শনিবার টুইটারে হাজার হাজার বার্তা আছড়ে পড়েছে।

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (আইএসআরও) সাবেক প্রধান কৃষ্ণস্বামী কস্তুরিরঙ্গনের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল ওই প্রস্তাবনা দিয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

প্রস্তাবনায় হিন্দির উপর জোর দেওয়া বিভিন্ন সুপারিশের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিবাদ এসেছে তামিল নাডু থেকে।

কয়েক দশক ধরেই দক্ষিণের এ রাজ্যটির বাসিন্দা ও রাজনীতিবিদদের কাছে ভাষা অত্যন্ত আবেগের বিষয়, বলছে এনডিটিভি।

কৃষ্ণস্বামী কমিশনের ‘খসড়া জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১৯’-এ ১৯৬৮ সাল থেকে কিছু কিছু স্কুলে চলে আসা ‘তিন ভাষা ফর্মূলার’ ধারাবাহিকতা রক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে।

“শিশুরা এখন শুরু থেকেই তিনটি ভাষা শিখতে পারবে; এটি শুরু হবে একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে,” খসড়া প্রস্তাবনায় এমনটাই বলা হয়েছে।

অসংখ্য ভারতীয় এ সুপারিশকে ‘অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলক’ করার চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

প্রস্তাবনার প্রতিবাদে এরইমধ্যে ‘স্টপ হিন্দি ইমপোজিশন’ ও ‘তামিল নাডু এগেইনস্ট হিন্দি ইমপোজিশন’ শীর্ষক দুটি হ্যাশট্যাগে টুইটার সয়লাব হয়ে গেছে।

রোববার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত টুইটারে এই দুটি হ্যাশট্যাগ প্রচারণায় অন্তত এক লাখ বার্তা জমা পড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সোশাল মিডিয়ায় নাগরিকদের এ তীব্র প্রতিবাদের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও খানিকটা পিছিয়ে এসেছে।

দেশটির নতুন শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরেল বলেছেন, কৃষ্ণস্বামী কমিশনের সুপারিশগুলো কোনো নীতি নয়, এটি কেবলমাত্র একটি প্রতিবেদন হিসেবেই জমা পড়েছে।

“মানুষের প্রতিক্রিয়া অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া হবে। এটাকে নীতি ধরে নিয়ে ভুলবোঝাবুঝি হচ্ছে। কোনো রাজ্যেই কোনো ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হবে না,” বলেছেন তিনি।

তামিল নাডুর স্কুলশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, (কেন্দ্র) নতুন এ নীতি কার্যকর করার চেষ্টা করলেও তার রাজ্যে তা মুখ থুবড়ে পড়বে।

“তামিল নাডু দুই ভাষা নীতিই অনুসরণ করবে। এখানে কেবল তামিল ও ইংরেজিই সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাবে,” বলেছেন কে এ সেঙ্গোতাইয়ান।

দক্ষিণের রাজ্যটির এ শিক্ষামন্ত্রীর দল অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিডা মুনেত্রা কাজাঘাম (এআইডিএমকে) কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে জোটবদ্ধ।

খসড়া এ শিক্ষা প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে তামিল নাডুর বিরোধী শিবিরও একাট্টা।

“বিজেপিকে সতর্ক করে বলছি- এ ধরনের যে কোনো পদক্ষেপ তাদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে,” বলেছেন দ্রাবিডা মুনেত্রা কাজাঘাম (ডিএমকে) নেতা এমকে স্ট্যালিন।

কেন্দ্রীয় সরকার হিন্দিকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ‘ভাষা যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মারুমালারচি দ্রাবিডা মুনেত্রা কাজাঘাম (এমডিএমকে) নেতা ভাইকো।

আম্মা মাক্কাল মুনেত্রা কাজাঘাম (এএমএমকে) নেতা টিটিভি ধিনাকরণ বলেছেন, “হিন্দিভাষী নয় এমন রাজ্যগুলোতে হিন্দি চাপিয়ে দিলে তা বহুত্ববাদকে ধ্বংস করবে। এ পদক্ষেপ হিন্দিভাষী নয়, এমন ভারতীয়দের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করবে।”

অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসা কমল হাসানও খসড়া শিক্ষানীতি প্রস্তাবনার কড়া সমালোচনা করেছেন।

“আমি হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি; কিন্তু কারোরই অন্য কারও উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া সাজে না। শেষ পর্যন্ত, কোনো ভাষা কেউ শিখবে কিনা এটা যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ,” বলেছেন তিনি।

তামিল নাডু দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দিকে ভারতের অন্যান্য ভাষার তুলনায় প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভের আগে ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চল হিন্দিবিরোধী অসংখ্য প্রতিবাদের সাক্ষী হয়েছিল।

১৯৬৫ সালে হিন্দিকে নিয়ে বিরোধ ফের চাঙ্গা হলে দাঙ্গায় প্রায় ৭০ জনের মতো মানুষ প্রাণ হারায়।

ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু সেসময় হিন্দিভাষী নয় এমন রাজ্যগুলো না চাওয়া পর্যন্ত তাদের অঞ্চলে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হবে না এবং ইংরেজি ভাষাকে সংযোগকারী ভাষা হিসেবে চালু রাখার আশ্বাস দেন।

কৃষ্ণস্বামী কমিশন তাদের সুপারিশ সম্বলিত শিক্ষানীতির খসড়া শুক্রবারই নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী রমেশ পোখরেল নিশঙ্কের হাতে তুলে দেন।

ভারতের এখনকার শিক্ষানীতি ১৯৮৬ সাল থেকে কার্যকর হয়; ১৯৯২ সালে নীতিটির একদফা সংশোধনও হয়েছে।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের ইশতেহারে নতুন একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর