শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২০ ১১:০২ এএম


ভারতের শিক্ষানীতিতে আমূল পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬:০৯, ৩১ জুলাই ২০২০  

ভারতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষানীতিতে (এনইপি) আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। বুধবার জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুমোদন দিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। দীর্ঘদিন পর ফিরিয়ে আনা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতদিন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় শিক্ষা-সংক্রান্ত সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিত। নতুন শিক্ষানীতিতে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। প্রাথমিক পর্যন্ত শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মাতৃভাষাকে। খবর এনডিটিভির।

তিন দশকেরও বেশি আগে প্রণয়ন করা জাতীয় শিক্ষানীতিতে ভারতের সব স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষা কিংবা যে কোনো একটি স্থানীয়/আঞ্চলিক ভাষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নীতিতে সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীর কাছে সংস্কৃত ভাষা অধ্যয়নের প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। বিদেশি ভাষা শিক্ষা শুরু হবে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায় থেকে। তবে শিক্ষার্থীর ওপর কোনো ভাষা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই নীতিতে। এ ছাড়া তিন থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত সব শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক শিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ইন্টার্নশিপসহ কারিগরি শিক্ষার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের জুনে খসড়া শিক্ষানীতি প্রকাশের পর ভাষা সংক্রান্ত কিছু প্রস্তাবে ভারতে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় অনেক রাজ্যই শিক্ষার্থীদের ওপর কেন্দ্র থেকে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার আশঙ্কা করেছিল। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে জাতীয় শিক্ষানীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনে ভারত সরকার। পরে এই শিক্ষানীতিকে স্বাগত জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, `দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতের এই সংস্কার ঝুলে ছিল। ফলে অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেক দিন।` নতুন নীতিতে স্কুলের বাইরে থাকা দুই কোটি শিশুকে মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভারতের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী, মোট ১২ বছরের স্কুল শিক্ষার আগে তিন বছরের প্রাক-স্কুল বা অঙ্গনওয়ারি ধাপ রাখতে বলা হয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর পরীক্ষার পরিবর্তে তৃতীয়, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে মোট তিনবার পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বিশ্নেষণ, চিন্তার সক্ষমতা এবং ধারণা স্পষ্টকরণের সক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বোর্ড পরীক্ষা আগের মতোই দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এসব পরীক্ষা পুনর্বিন্যাস করা হবে, যার লক্ষ্য হবে সার্বিক উন্নয়ন। এ ক্ষেত্রে পরখ নামের নতুন একটি জাতীয় মূল্যায়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।


ভারত সরকার বলছে, নতুন শিক্ষানীতির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচির চাপ কমানো এবং আরও বেশি বহুমাত্রিক করে তোলা। আগের মতো কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের মধ্যে কঠোর পার্থক্য করা হবে না। সামগ্রিক শিক্ষার লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজিগুলোতেও (আইআইটি) প্রয়োজনে ২০৪০ সালের মধ্যে বিজ্ঞান শাখায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে কলা ও মানবিক বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী, চার বছর মেয়াদি স্নাতক প্রোগ্রামগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে যাওয়ারও একাধিক সুযোগ দেওয়া হবে। চার বছর অধ্যয়ন শেষে একটি বহুমাত্রিক (মাল্টি ডিসিপ্লিনারি) স্নাতক ডিগ্রি দেওয়া হবে। দুই বছর পর শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে যেতে চাইলে পাবে ডিপ্লোমা ডিগ্রি। আর এক বছরের মাথায় বেরিয়ে গেলে ভোকেশনাল/পেশাজীবী কোর্সের ডিগ্রি দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে বাতিল হয়ে যাবে এমফিল (মাস্টার্স অব ফিলোসফি) কোর্স।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর