সোমবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:১৫ পিএম


ভাইভার সময় করণীয় ও বর্জনীয় কিছু বিষয়

মো. ইমরান হোসেন

প্রকাশিত: ১২:১৪, ৫ অক্টোবর ২০১৯  

১। আপনি কি পারেন- কি পারেন না, এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছুই নেই। ভাইভা বোর্ডে আপনাকে সবকিছু পারতে হবে না। ভাইভার জন্য প্রয়োজন কন্ফিডেন্স।
২। ভাইভার আগের রাত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন। একটু ভালো ঘুম আপনার মন সতেজ করে দিতে পারে।
৩। ভাইভা বোর্ডে যাওয়ার আগে অবশ্যই মাথার চুল ছোট করে নিবেন। চুল বড় হলেও সমস্যা নেই, চিরুনি দিয়ে আঁছরিয়ে নিতে ভুলবেন না। ছোট ছোট দাঁড়ি না রাখাই ভালো। তবে ন্যাচারাল দাঁড়ি, যেটায় কোনো ব্লেড লাগানো হয়নি সেটা থাকলেও চলবে। নখ ছোট করা বাধ্যতামূলক।
৪। আপনার ড্রেস কোড- ড্রেসের কালার কম্বিনেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ কালার চয়েস দেখেই একজন মানুষের পার্সোনালিটি সম্পর্কে অনেক ইছু ধারণা করা হয়ে থাকে। একটু লাইট কালারের কাপড় পছন্দ করা যেতে পারে,তবে অবশ্যই লাল/পিঙ্ক/হলুদ/লেমন কালার নয়।
৫। ভাইভার আগেরদিন রাতে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আলাদা কোনো ফাইলে রেখে দিন। এইদিন খুব বেশি পড়াশোনা না করাই ভালো।
৬। ভাইভা বোর্ডে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কলম নিয়ে যাবেন।
৭। ভাইভার দিন ভাইভা কেন্দ্রে কমপক্ষে ৩০মিনিট আগে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করুন।
৮। ভাইভা বোর্ড থেকে বের হয়ে আসা পরীক্ষার্থীকে কি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়েছে-এসব জানা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। কারণ এতে আপনার কনফিডেন্স কমে যেতে পারে।
৯। সালাম সাপেক্ষে অনুমতি নিয়ে ভাইভা বোর্ডে প্রবেশ করুন। প্রবেশের সময় জুতার আওয়াজ যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখটা জরুরি।
১০। স্যার নিজ থেকে বসার অনুমতি না দিলে আপনি নিজে অনুমতি নিয়ে বসে পড়ুন।
১১। চেয়ারে বসে নড়াচড়া করা যাবে না। হাত টেবিলের উপর রাখা যাবে না। হাতগুলো আপনার পায়ের উপর রাখুন।
১২। ভাইভা বোর্ডে যে স্যার প্রশ্ন করবেন ঠিক সে স্যারের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে চেষ্টা করুন। প্রশ্নের উত্তর বড় হলে অবশ্য অন্যান্য শিক্ষকের দিকে তাকাতে পারেন।
১৩। ভাইভা র্বোডে খুব আস্তে বা খুব জোরে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
১৪। ভাইভা বোর্ডে যেসব কমন প্রশ্ন করা হয়ে থাকে সেগুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখবেন।
★ আপনার সম্পর্কে
★আপনার নামের অর্থ
★আপনার নামের সাথে মিল এমন বিখ্যাত কোনো ব্যক্তির জীবনাদর্শ
★আপনার জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি সম্পর্কে
★আপনার জেলার বিখ্যাত জায়গায় সম্পর্কে
★ আপনার ডিপার্টমেন্টে ভর্তির কারণ
★ আপনার পঠিত কোর্সগুলোর সম্পর্কে
★ ক্যারিয়ার সম্পর্কে
★ক্যারিয়ারের সাথে আপনার ডিপার্টমেন্টের সম্পর্ক, ইত্যাদি।

১৫। কোনো প্রশ্নের উত্তর না পারলে সরাসরি সরি বলে দিন। আমতা-আমতা না করাই ভালো। আজে-বাজে উত্তর না দেওয়ার চেষ্টা করুন।
১৬। `আপনি সবকিছু পারেন` এটা কোনো মতেই প্রমাণ করতে যাওয়া উচিত হবে না। কারণ ভাইভা বোর্ডে যারা আছেন মোটামুটি তারা অনেক অভিজ্ঞ।
১৭। ভাইভা বোর্ডে আপনার ধৈর্যশক্তি পরীক্ষা করার জন্য আপনার সাথে খারাপ আচরণ করতে পারে। এ ব্যাপারে সবসময় পজেটিভ থাকুন।
১৮। ভাইভা বোর্ডে কোনো মতেই স্যারদের সাথে টক্কর মারতে যাবেন না। স্যার যদি আপনার কোনো উত্তর ভুল হয়েছে বলেন- তাহলে ওভার কনফিডেন্স দেখাতে যাওয়া উচিত হবে না।
১৯। সিচুয়েশন বোঝে আপনার মুখের ভঙ্গি করুন। স্যারদের আচরণের দিকে লক্ষ্য রাখুন।

২০। ভাইভা শেষে মুখে একটু হাঁসি রেখে- স্যারদের ধন্যবাদ দিয়ে দিন। সালাম দিয়ে আাস্তে করে বের হয়ে আসুন।

প্রশিক্ষনরত ৩৭ তম এস.আই. ক্যাডেট

সারদা, রাজশাহী।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর