বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৪৯ এএম


ভর্তিচ্ছুদের ভোগান্তির দায় নেবে কে?

ড. মো. আমজাদ হোসেন

প্রকাশিত: ০৭:৫১, ২০ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ০৭:৫২, ২০ জুলাই ২০১৯

সাফল্যের সিংহ দরজা অতিক্রম করে উচ্চশিক্ষার নতুন ভুবনে প্রবেশের ছাড়পত্র পাওয়া কয়েক লাখ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকের জন্য ভর্তি পরীক্ষা এক বিরাট যুদ্ধ এবং কোচিং সেন্টারের জন্য রমরমা ব্যবসা। ঘুম হারাম, খেলাধুলা ও খাওয়া-দাওয়া বন্ধ, প্রচণ্ড মানসিক চাপ, কেবল পড়া, মুখস্থ করা, কোচিং সেন্টারের ক্লাসে যাওয়া এ এক কঠিন জীবন উচ্চশিক্ষায় ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের।


ভর্তিচ্ছুরা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শেষ করেই আরেকটি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সারা রাত জেগে, দীর্ঘ ভ্রমণ করে পরের দিন সকালে যায় অন্য শহরে অবস্থিত আরেকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এ ছাড়াও রয়েছে অভিভাবকদের ভোগান্তি ও অনেক টাকা খরচ (কোচিং সেন্টারের ভর্তি ফি, থাকা-খাওয়ার খরচ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাতায়াত খরচ, গড়ে ১০ থেকে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফি)। এত কষ্ট এবং প্রহসনের পরও ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েও পছন্দমতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার জন্য ভর্তি হতে পারে না হাজারও শিক্ষার্থী। কারণ ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীর সংখ্যার তুলনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যা (সর্বমোট প্রায় ৫০,০০০) নিতান্তই কম।

ইন্ডিয়ান একটি সিনেমার গল্প হচ্ছে এ রকম- উচ্চ মাধ্যমিকে কিছুসংখ্যক ছাত্র ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করেছে। ফলে তারা কোথাও কোনো কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না। এরপর তারা নিজেরাই কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে ছাত্র ভর্তি করল এবং নিজেরাও সেই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হল। সিনেমার শেষটা ছিল এ রকম যে, ছাত্ররা যদি ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য কোথাও ভর্তি হতে না পারে, তাহলে তাদের পাস করিয়ে লাভ কী? পাস নম্বর ৮০ শতাংশ করা হোক, যাতে ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে যারাই পাস করবে তারাই কেবল উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হতে পারবে। আমরা যেমন স্কুলের নিু শ্রেণিতে ড্রপ-আউট বা ঝরে পড়া দেখতে চাই না, তেমনই যারা কলেজ পর্যায়ে পৌঁছায় দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে, তারাও যেন শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারে সেটাও নিশ্চিত করা চাই।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল প্রকাশ শুরু হয় ২০০৩ সালে। গ্রেডিং পদ্ধতির শুরু থেকে এ পর্যন্ত কখনও গাণিতিক আবার কখনও জ্যামিতিক হারে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০১৯ সালে ৪১ হাজার ৮০৭ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেই তাকে সত্যিকারের মেধাবী বলা যাবে না। পরীক্ষার প্রশ্ন গণকদের কদর বাড়ার কারণে এমনটি হয়েছে বলে মনে করে অনেকে।

এ গণকরা পরীক্ষার আগে ২-৩ বছরের প্রশ্ন আলোচনা করে বলে দেয় কোন কোন প্রশ্ন পরীক্ষায় আসবে। শিক্ষার্থীরা সেগুলো মুখস্থ করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যায় এবং ফল মেলে হাতে হাতে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য পাঠ্যবইয়ের কিছু অংশ ভালোভাবে পড়লেই হয়। অনেক পরীক্ষার্থী ৪-৫টি অধ্যায় বাদ দিয়েই এ+ পেয়ে থাকে। কারণ প্রত্যেক প্রশ্নেরই বিকল্প প্রশ্ন থাকে। কাজেই এখন জিপিএ দ্বারা মেধার বিচার করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক যখন মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার অনুরূপ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত পরীক্ষার কথা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাব রাখছে, সেখানে ৩ দশক পর দেশের সরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে প্রাপ্ত জিপিএ-এর ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ঠিক এ বছর জিপিএ-এর ভিত্তিতে মেডিকেলে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হলে, গত বছরের অনেক গোল্ডেন এ+ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রী আছে যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আছে এবং প্রথম বর্ষের সেমিস্টারের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তারাও এবার মেডিকেলে ভর্তির জন্য আবেদন করবে।

ফলে ওই আসনগুলো সব খালি হবে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া হাজারও শিক্ষার্থী যারা বছর লস দিয়ে দ্বিতীয়বার মেডিকেলে ভর্তির জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে, তাদের অনেকেই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ করার সুযোগ পাবে না। আবার অনেক শিক্ষার্থী হয়তো অল্পের জন্য জিপিএ-৫ পায়নি, তাদের অনেকেই নতুন উদ্যমে আপ্রাণ চেষ্টা করছে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার জন্য, তাদেরও সুযোগ দেয়া উচিত মেধা যাচাইয়ের।

পাসের হার বৃদ্ধির অর্থ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রতিযোগিতা তীব্রতর হওয়া। সবাই চাইবে ভালো বিষয়ে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে। আয়তনে ছোট যে দেশের লোকসংখ্যা ১৬-১৮ কোটি, যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল, চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, ব্যবসা ও বিশেষায়িত বিষয়ের আসন সংখ্যা ভর্তিচ্ছুদের তুলনায় অনেক কম, সেখানে ভর্তির প্রতিযোগিতাও প্রবল এবং আরও তীব্রতর এটাই কঠিন বাস্তবতা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গর্ব করার মতো অন্যতম বিষয় হচ্ছে স্বচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা। আর ভর্তি পরীক্ষা ব্যতীত জিপিএ বা অন্য কোনো উপায়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা ঠিক হবে না। সে ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

উন্নত দেশের সব কটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে অথবা তাদের স্যাট, জিআরই এবং টোফেলের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্র্তি করা হয়। জাপানে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়। তা ছাড়া ভারতে আইআইটিতেও ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়। এমনকি মেডিকেলে ভর্তির জন্য এআইপিএমটি (অল ইন্ডিয়ান প্রি-মেডিকেল টেস্ট) দিতে হয়, যেটা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা হয়। তা ছাড়া দীর্ঘ সময়ব্যাপী অনুষ্ঠিত পরীক্ষা স্যাট, জিআরই ও টোফেলের প্রশ্নের ধরন, সেটাও তো এক ধরনের ভর্তি পরীক্ষার অনুরূপ। ভর্তি কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য শুধু জিপিএ ভিত্তিতে ভর্তি না করে আসন সংখ্যার ৩-৪ গুণ অতিরিক্ত শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

সরকার যদি একযোগে মাসব্যাপী ৮-৯ লাখ শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তাহলে বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে ২-৩ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভর্তি পরীক্ষাও একযোগে সফলভাবে নিতে পারবে না কেন? এ ক্ষেত্রে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ভর্তি ফরম পূরণ করার সময় ক্রমান্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও পছন্দের বিষয়ের তালিকা দেবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে দক্ষ টেকনিক্যাল জনবল। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, কুয়েট ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষ শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও শিক্ষক একমত হবেন না। কারণ উদ্বৃত্ত ভর্তি ফি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কিছু বাড়তি আয় বন্ধ হবে বলে।

মেডিকেলসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ থাকায় অপেক্ষাকৃত কম পছন্দের বিষয়ের ভর্তি বাতিল করে অনেকে দ্বিতীয়বার ভালো পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হয়। অর্থাৎ ১ বছর পরে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত আসনের কম সংখ্যক ছাত্রছাত্রী থাকে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা জনগণের টাকার সুষ্ঠু ব্যবহার হয় না। এ জন্য বিভাগীয় প্রধান, ফ্যাকাল্টির ডিনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ৫-৮ জন অতিরিক্ত ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা যেতে পারে। অথবা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুরূপ মেডিকেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অসম প্রতিযোগিতা অর্থাৎ দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বন্ধ করতে হবে। এতে আরও কিছু খালি আসন পূর্ণ হবে। ফলে অনেক বঞ্চিত মেধাবী ছাত্রছাত্রী পাবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার পড়ার সুযোগ।

আর যদি প্রাপ্ত জিপিএর ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি করতেই হয় তাহলে প্রথম কার্যক্রম শুরুর ১ বছর আগে ঘোষণা দিতে হবে- এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই ভর্তি পরীক্ষার নীতি প্রকাশ করতে হবে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মার্কশিটে গ্রেডের পাশাপাশি নম্বর উল্লেখ করতে হবে। তাহলে কোনো রকম অভিযোগ ও হয়রানি ছাড়া স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠুভাবে সব ভর্তি কার্যক্রম সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের যে কয়টি সূচককে বিবেচনায় নেয়া হয়, সেগুলোর প্রতিটিরই উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বোর্ডগুলোর মধ্যে পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর জন্য আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি কমাতে হবে। পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি করা হলে ভর্তি জটিলতা কমে আসবে, ভর্তি কোচিং ব্যবসা বন্ধ হবে, তবে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে নম্বর বাড়ানোর জন্য কোচিং বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রবণতা বাড়বে।

সফলভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন, বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, জেএসসি প্রবর্তন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার বাড়ানোসহ বেশকিছু অর্জন রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও প্রশংসা এবং সাধুবাদ পেত, যদি সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অভিন্ন সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনার পদক্ষেপ নেয়া হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভর্তিপ্রার্থী নির্বাচন করা হলে ছাত্রছাত্রীরা মানসিক চাপ ও অহেতুক হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে। অভিভাবকদেরও মানসিক এবং আর্থিক চাপ কমবে; এর ফলে গরিব মেধাবীরাও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবে এবং সমগ্র জাতি উপকৃত হবে।

দেশে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৯টি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতিও ভিসিদের ডেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও এ বিষয়ে সোচ্চার। মেডিকেল কলেজের আদলে প্রায় এক দশক ধরে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার জন্য সরকার তাগিদ দিলেও তাতে কাজ হচ্ছে না। এরপরও অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ‘একলা চলো নীতি’তে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের এবারও মুক্তি মিলছে না ভোগান্তি থেকে। তাহলে এ বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভোগান্তি দূর করতে দায় নেবে কে?

ড. মো. আমজাদ হোসেন : শিক্ষক ও গবেষক, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর