মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ২:১৪ এএম


ব্যবসা অনুষদের ৫ বিভাগের চারটিতেই সেশনজট

নুরুজ্জামান খান, রাবি

প্রকাশিত: ১২:৩২, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শেষ না হওয়া, শিক্ষক সংকট, শিক্ষকদের ক্লাস নিতে গাফিলতি, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, ফল প্রকাশে বিলম্বসহ নানা কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ব্যবসায় অনুষদের পাঁচটি বিভাগের মধ্যে চারটিতেই ভয়াবহ সেশনজট সৃষ্টি হয়েছে। একই সেশনে ভর্তি হওয়া অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক বর্ষ থেকে অন্য বর্ষে উত্তীর্ণ হলেও এ বিভাগগুলোর এক হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী তিন মাস থেকে এক বছর পিছিয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফাইন্যান্স বিভাগ ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে সেশনজট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হয়। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বর্ষে দু-একটি হলে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর চার মাসেও কোনো ক্লাস পরীক্ষা হয়নি। এ ছাড়া বিভাগের প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত ক্লাস নেন মাত্র চারজন শিক্ষক। ওই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের কথা থাকলেও এখনও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শেষ করে বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে পারেনি বিভাগটি।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শেষ করে পরীক্ষা না নেওয়ার কারণে প্রতিটি বর্ষে আড়াই মাসের সেশনজট তৈরি হয়েছে।

ফাইন্যান্স বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকদের যথাসময়ে ক্লাস না নেওয়া, উত্তরপত্র মূল্যায়নে গড়িমসি ও ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে সেশনজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক বছর জটে পড়েছে। জটের কারণে বর্তমানে বিভাগে ছয়টি বর্ষ রয়েছে।

ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যথাসময়ে ক্লাস শেষ করলেও বিভাগের শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে পাঁচটি ব্যাচের ৫০০ শিক্ষার্থী চার থেকে আট মাসের সেশনজটে আটকে আছেন। শিক্ষার্থীরা বারবার পরীক্ষা নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের কাছে অনুরোধ জানালেও তারা সাড়া দেননি বলেও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকদের গাফিলতিতে ঠিকমতো ক্লাস না নেওয়া, শিক্ষক সংকট, নিজেদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ফলে শিক্ষার্থীদের এমন পরিণতিতে পড়তে হচ্ছে। শিক্ষকরা বিভাগে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা না নিলেও সান্ধ্য কোর্সের ক্লাস-পরীক্ষা নিয়মিত নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক এম হুমায়ুন কবীর বলেন, `সেশনজট তৈরি হয় শিক্ষকদের ক্লাস না নেওয়া, পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব করাসহ কয়েকটি কারণে। এর সমাধান নির্ভর করে বিভাগের শিক্ষকদের ওপর। অনুষদের ডিন হিসেবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে।`

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, `সেশনজট কোনোভাবেই আমাদের জন্য কাম্য নয়। আমরা চাই দ্রুত এর সমাধান হোক। অনুষদের ডিন ও বিভাগগুলোর শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করব।`

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর