বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:৫৮ পিএম


বোর্ড কর্মচারীদের পদমর্যাদা উন্নীতকরণের আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

মো: শফিকুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১৯:১৮, ২৮ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৯:৩৩, ২৮ অক্টোবর ২০১৯

ঢাকা শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের অভিষেক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।ছবি : এডুকেশন বাংলা

ঢাকা শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের অভিষেক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।ছবি : এডুকেশন বাংলা

১১ থেকে ১৬ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি ও বেতনগ্রেড উন্নীতকরণের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন।

কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাদের কাছে তাদের বিষয়টি লিখিত আকাদের দেয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। আরও কোনো দাবি থাকলে সেটিও পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দীপু মনি বলেন,প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি যে, আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করবো। যেখানে আমাদের যা করণীয় আন্তরিকতার সাথে করবো। সবকিছু আমার হাতের নাগালে নয়। আর্থিক কোনো বিষয় থাকলে অন্য মন্ত্রণালয়ের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়।

এর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্যে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ শুভেচ্ছা বক্তব্যে ১১ থেকে ১৬ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি ও বেতনগ্রেড উন্নীতকরণের দাবি উপস্থাপন করেন।

কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. বাবুল আকন অভিষেক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরেরর মহাপরিচালক প্রফেসর সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক,সচিব প্রফেসর
তপন কুমার সরকার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. আবুল বাশার,উপপরিচালক আজাদ হোসেন চৌধুরী ।

১১ থেকে ১৬ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি ও বেতনগ্রেড উন্নীতকরণের দাবি জানিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন বোর্ড কর্মচারীরা।


ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. বাবুল আকন এডুকেশন বাংলাকে জানান, সরকার কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন ও জনপ্রশাসনে গতিশীলতা আনতে সব মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ১১-১৬ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের পদের নাম ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী আমাদের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন। আশা করছি দ্রুত সরকার এ বিষয়টি বাস্তবায়ন করবেন।


সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিপূর্বে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম এনালিস্ট পদটি সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট পদে, নিম্নমান সহকারী পদটি অফিস সহকারী কাম সাঁট মুদ্রাক্ষরিক এবং পরে অফিস সহকারী কাম সাঁট মুদ্রাক্ষরিক পদটি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে, পিয়ন পদটি এমএলএসএস পদে এবং পরে এমএলএসএস পদটি অফিস সহায়ক পদে, ঝাড়ুদার পদবি পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে কিছু পদ বিদ্যমান আছে যা বোর্ডের জনবল কাঠামোতে ছিল না এবং বর্তমানেও নেই। কিন্তু বিভিন্ন সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পদগুলো পরিবর্তন করা হয়।

শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা জানান, ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ১১-১৬ গ্রেডভুক্ত যেসব পদের পদমর্যাদা উন্নীতকরণে করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান এবং প্রস্তাবিত পদ সমূহের বিকল্প পদের নামের তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিলো। সে প্রেক্ষিতে গত ১৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে গত তিন বছরে ১১-১৬ গ্রেডভুক্ত যেসব পদের পদমর্যাদা উন্নীতকরণ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং প্রস্তাবিত পদনাম সমূহের বিকল্প পদনামের তথ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছিলো। গত বছরের ২৪ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে পাঠানো চিঠিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠির চাহিদা অনুযায়ী তথ্য ৩ কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছিলো।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দের অর্ডিন্যান্স দ্বারা পরিচালিত একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। ধারা অনুযায়ী বোর্ডের পদের সংখ্যা, পদের নাম এবং বেতন ভাতাদি নির্ধারণের ক্ষমতা বোর্ডের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। বোর্ড অর্ডিন্যান্সের ক্ষমতাবলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১১-১৬ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের পদমর্যাদা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে বেতনগ্রেডসহ উন্নীত করা হয়েছে।

নবগঠিত ময়মনসিংহসহ সারাদেশে শিক্ষাবোর্ডের সংখ্যা ১১টি। তবে, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে ইতিমধ্যে এ/ও এবং পি/ওর দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে বলে কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনের প্রাথমিক অনুমতি, পাঠদানের অনুমতি, একাডেমিক স্বীকৃতি, ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিংবডির দেখভাল, পাবলিক পরীক্ষা নেয়া ও ফল প্রকাশের কাজ করে শিক্ষাবোর্ডগুলো।

এডুকেশন বাংলা/ এসআই

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর