রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ৪:৩১ এএম


বৈশাখী ভাতা পৌঁছায়নি বহু হিসাব নম্বরে

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ০৯:৪৪, ১৫ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ০৯:৫১, ১৫ এপ্রিল ২০১৯

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চলতি মাসে গত মার্চ মাসের বেতনের সঙ্গে ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেলেও এর থেকে বঞ্চিত হলেন সারাদেশের লাখ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের জন্য এ বছরই প্রথম বৈশাখী ভাতা ছাড় করেছে সরকার। গত ৯ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে এ অর্থ ছাড় করা হয়। মাত্র তিন দিন সময় দিয়ে ১১ এপ্রিলের মধ্যে তা তুলতে নির্দেশ দেওয়া হয় সারাদেশের শিক্ষক-কর্মচারীদের। অথচ এ তিন দিনের মধ্যে টাকাই পৌঁছায়নি বহু জেলায় শিক্ষকদের হিসাব নম্বরে। ফলে সারাদেশের লাখ লাখ শিক্ষক বৈশাখের আগে এ ভাতার অর্থ তুলতেই পারেননি।

সারাদেশের ২৬ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন প্রায় ৫ লাখের মতো। তাদের ৮০ ভাগই প্রথমবারের মতো দেওয়া এই ভাতার অর্থ তুলতে পারেননি।

মাউশির উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. রুহুল মমিন জানান, বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা-২০১৯ এর অর্থ ছাড় করা হয়েছে গত ৯ এপ্রিল। এ ভাতার অর্থের ৮টি চেক সংশ্নিষ্ট ব্যাংকে ওই দিনই পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, `সেদিন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরাধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা বণ্টনকারী অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের নিজ নিজ ব্যাংকের হিসাব নম্বরের মাধ্যমে বৈশাখী ভাতার টাকা তুলতে পারার কথা। কেন পৌঁছেনি তা অবহিত নই আমি।`

রাজধানীর মিরপুর সিদ্ধান্ত হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, `৯ এপ্রিল মাউশি গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ১১ এপ্রিলের মধ্যে বৈশাখী ভাতার অর্থ তুলতে নির্দেশ দেয়। তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অগ্রহী ব্যাংকের মিরপুর-১ নম্বর শাখায়। শিক্ষকরা সেখানে যোগাযোগ করলে ব্যাংক থেকে জানানো হয়, তারা অর্থ ছাড়ের কোনো অ্যাডভাইস পাননি। ফলে শিক্ষকরা ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। ১১ তারিখের মধ্যে অর্থ তুলতে বলা হলেও ওই সময়ের মধ্যে টাকা ব্যাংকেই পৌঁছেনি।` এই প্রধান শিক্ষক বলেন, `এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বৈশাখী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। একই বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে সারাদেশের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত দুই বছর এ ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার তা চালু হলেও বাস্তবে কেউ তা হাতে পাননি। মাউশি থেকে টাকা ছাড় করা হয়েছেই দেরিতে। সারাদেশের শিক্ষক-কর্মচারীরা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন।`

মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে অবস্থিত ঢাকা স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ দিলওয়ারা ইসলামও জানান, তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ টাকা তুলতে পারেননি।

নড়াইল সদর উপজেলার এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জানান, তারা তাদের বেতন-ভাতা রূপালী ব্যাংকের শাখা থেকে উত্তোলন করেন। তবে তারা রূপালী ব্যাংকের নড়াইল শাখায় বৈশাখী ভাতা উত্তোলনের শেষ দিনে (১১ এপ্রিল) বিল জমা দিতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, বৈশাখী ভাতার বিল জমা দিতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরে আগামী ১৫ এপ্রিল (২ বৈশাখ) বৈশাখী ভাতার বিল জমা নেবেন জানিয়ে চলে যেতে বলেন। ঢাকার বাইরে নড়াইলে বৈশাখের আগে বৈশাখী ভাতা তুলতে না পেরে বৃহস্পতিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ ছাড়া প্রতি মাসের সরকারি অংশের বেতন-ভাতা তুলতেও ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। বলেন, এ নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে নানা অজুহাতে হয়রানি আরও বেড়ে যায়। এমনকি বিল জমা নিতেও গড়িমসি করেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের নড়াইল শাখার ব্যবস্থাপক এসএম ওয়াহিদুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, `শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতার অর্ডার শিট (হার্ড কপি) এখনও পর্যন্ত হাতে পাইনি। বৃহস্পতিবার বৈশাখী ভাতা জমা দেওয়ার শেষ দিন হলেও আগামী ১৫ এপ্রিল (২ বৈশাখ) বৈশাখী ভাতার বিল জমা নেওয়া হবে। এতে কোনো সমস্যা হবে না।`

টাকা হাতে পাননি সিলেটের ওসমানীনগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরাও। বৈশাখী ভাতার টাকা শেষ তারিখেও দিতে পারেনি জনতা ব্যাংক তাজপুর শাখা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে শিক্ষকদের নববর্ষের আনন্দে ভাটা পড়েছে। নববর্ষের পরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে হবে শিক্ষকদের। একই অবস্থা মাদ্রাসা শিক্ষকদেরও। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবুল লেইছ বলেন, `সরকার নববর্ষের জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা প্রদান করলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে তারা নববর্ষের আগে ভাতার টাকা পাননি। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বেতনও পাওয়া যায় না।` জনতা ব্যাংক তাজপুর শাখার ব্যবস্থাপক সুভাশিষ চক্রবর্ত্তী বলেন, `১১ এপ্রিল শেষ তারিখ হলেও ওইদিন পর্যন্ত ব্যাংকের শাখায় ভাতার টাকা পৌঁছায়নি বলে শিক্ষকদের টাকা দেওয়া যায়নি।` সুনামগঞ্জ জেলার বেহেলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতি রঞ্জন পুরকায়স্থ জানান, `বিল জমা হলেও টাকা পাওয়া যায়নি।` সিলেট জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শমসের আলী বলেন, `নববর্ষের আগে সরকারি বরাদ্দের বৈশাখী ভাতার টাকা হাতে না পাওয়ায় খুবই কষ্ট পেয়েছি আমরা।`

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর