বুধবার ২১ আগস্ট, ২০১৯ ২:৪১ এএম


বেসরকারি শিক্ষকদের মূল বেতন ছাড়া আর কিছুই বাড়েনি

সামিউল ইসলাম

প্রকাশিত: ১২:২৩, ১৪ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১২:২৩, ১৪ জুলাই ২০১৮

শৈশবে প্রাইমারি স্কুলে পড়েছিলাম কবি কাজী কাদের নেওয়াজের ‘শিক্ষকের মর্যাদা’ কবিতাটি। আশ্চর্যের বিষয়, কবিতাটি এখন আর পাঠ্যপুস্তকে নাই। হয়তো শিক্ষকরা মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য নয় বলে কবিতাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের এখন স্যার না বলে অনেকেই মাস্টর বা মাস্টর মশাই বলে ঠাট্টা-মশকরা করে। এটা কি শুধু সাধারণ মানুষরাই করে? না, উচ্চতর চেয়ারে আসীন ব্যক্তিরাও করে থাকেন। দেড়-দুই বছর আগে মাউশির একজন উপ-পরিচালক এক স্কুলশিক্ষককে বলেছিলেন, স্কুলে মাস্টারি করার চেয়ে আপনার এলাকার মোড়ে একটি চায়ের দোকান দেওয়া অনেক ভালো। এতে মাস্টরি করার চেয়ে অনেক বেশি ইনকাম হবে। শুধু ঐ উপ-পরিচালকই নন শিক্ষা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তাই শিক্ষকদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। অনেক শিক্ষক দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার কিংবা তারও বেশি টাকা খরচ করে শিক্ষা প্রশাসনের কর্তাদের কাছে এসে দেখাও করতে পারেন না। ব্যক্তিগত সহকারীরা বলে দেন, আপনার এ সমস্যার জন্য স্যারের কাছে যেতে পারবেন না। অধস্তন কর্মকর্তাদের কাছে যান। যদি বলা হয় অধস্তন কর্মকর্তারা তো বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। তখন বলা হয়—তাহলে কিছুই করার নাই।

বেসরকারি শিক্ষকরা মাসে বাড়ি ভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা পান। এক হাজার টাকা দিয়ে তো খোলা আকাশের নিচে ছাড়া কোথাও জায়গা পাওয়া যাবে না। শিক্ষকরা কি এতই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের পাত্র? এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দিয়ে কি তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-মশকরা করা হচ্ছে না?

সরকারি চাকরিজীবীরা শতভাগ ঈদ বোনাস পান আর এসব শিক্ষক সিকিভাগ পায়। তাও আবার কর্তৃপক্ষের গাফলতির জন্য সবসময় ঈদের আগে তোলা সম্ভব হয় না। শিক্ষকদের বেতন উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত শেষ দিনের আগে কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের বিলের কপি জমা নেয় না। অন্যদিকে মাউশি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বেতন উত্তোলনের জন্য ১২-১৫ দিন সময় নির্ধারণ না করে ইচ্ছা করলে আরো কমিয়ে দিতে পারে। তাহলে শিক্ষকরা আরো আগেই বেতন তুলতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীরা বৈশাখীভাতা পেলেও ৮ম পে স্কেল চালুর ৩ বছরের মধ্যেও হতভাগ্য এসব শিক্ষকের কপালে এখনো তা জোটেনি। সরকারিরা ৫% ইনক্রিমেন্টসহ পে স্কেলের যাবতীয় সুবিধা ভোগ করলেও বেসরকারি শিক্ষকদের মূল বেতন ছাাড়া আর কিছুই বাড়েনি। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো ১৬০০০ টাকার স্কেল হলেই শিক্ষকদের আয় কর/রিটার্ন ফরম জমা দিতে হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের তো মূল বেতনের সঙ্গে অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে বেতনের প্রায় দ্বিগুণ হয়। আর এসব শিক্ষকের? বাড়ি ভাড়া ১০০০ এবং চিকিত্সাভাতা ৫০০ টাকা। তাহলে কেন তাদের আয়কর/ রিটার্ন ফরম জমা দিতে হবে? শিক্ষকদের মধ্যেও যারা সরকারি শিক্ষক রয়েছে তারা বেসরকারিদের মতো একই বই পড়িয়ে সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।

বেসরকারি শিক্ষকদের পান থেকে চুন খসতে না খসতেই হুমকি দেওয়া হয় এমপিও বন্ধের। কিন্তু সরকারিদের? বেসরকারিদের সঙ্গে সবসময় এ ধরনের আচরণ কেন? শিক্ষকরা হচ্ছে জাতি গড়ার কারিগর। জাতি গড়ার কারিগরকে এভাবে অবজ্ঞার চোখে দেখে আমরা কখনো একটি ভালো ও শোষণমুক্ত জাতি প্রত্যাশা করতে পারব না।

ময়মনসিংহ

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর