শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৪:৩৬ পিএম


বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরভাতা উত্তোলনে দীর্ঘসূত্রতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৫৭, ২৩ আগস্ট ২০১৯  

একথা শুনে সবাই অবাক হবেন যে, বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষকরা কাগজপত্র জমা দেওয়ার তিন-চার বছর পরে তাঁদের অবসরভাতা উত্তোলন করেন। যে শিক্ষক মাসে মাসে টাকা পেতেন, সেই শিক্ষকই অবসরে যাওয়ার পরে তাঁর সরকারি শিক্ষকদের মতো কোনো এলপিআর নেই। যা পাবেন তা তিনি একবারই পাবেন। এ অবস্থায়, অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি একজন শিক্ষকের কী করুণ দশাই না হয়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে গলগ্রহ হয়ে থাকা।

এই শিক্ষকরাই একদিন তাঁদের যৌবনের সোনালি দিনগুলো মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে নিবেদন করেছেন। আজকের দিনে যাঁরা অবসরভাতা উত্তোলনের ফাঁদে পড়েছেন, তাঁরাই এক সময় তিন মাস পর পর চার মাসের মাঝামাঝি গিয়ে তাঁদের অনুদান পেতেন। আর এই সময় যাঁরা বেসরকারি শিক্ষক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের অবসরের টাকা দেখা যাবে চাকরি শেষে সাত দিনের মধ্যেই নিজেদের অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেছে।

একবার চিন্তা করে দেখুন তো—ঈদ, পুজো, বড়দিন এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান উপলক্ষে যখন দেশজুড়ে নানা উত্সব চলে, তখন এই বেচারা শিক্ষকরা তাঁদের ছেলেমেয়ের সামনে কতটা মর্যাদাশূন্য অবস্থায় থাকেন। যে শিক্ষক সারা জীবন ছাত্রছাত্রীদের কত রকম প্রশ্নের সমাধান দিয়েছেন আর আজ তাঁর জীবন চলার পথে এই প্রশ্নের সামাধান কে দেবেন? এখন একুশ শতক চলছে আর অবসরভাতা ট্রাস্ট বোর্ড জানাচ্ছেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ২০১৬-২০১৭ সালের কাজ চলছে। ফান্ডে টাকা নেই ইত্যাদি ইত্যাদি।

অনেক শিক্ষক মারা গেছেন, অনেক শিক্ষক অসুস্থ অবস্থায় চিকিত্সার জন্য দেশের নানা স্থান থেকে রাজধানীতে আসছেন। শুনি হজব্রত পালন করলে কিছু টাকা দেওয়া হয়। হজের সাধ্য-সামর্থ্য আর অর্থনৈতিক সুযোগ কি সবার আছে? পরিশেষে, সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে করজোর আবেদন—দয়া করে আমাদের অবসরভাতার টাকা উত্তোলনের একটা জরুরি ব্যবস্থা নিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর