সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:০২ পিএম


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম

প্রকাশিত: ০৯:১৮, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

আইন অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসব বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা পেয়ে থাকে। এটাই যখন নিয়ম, তখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কিংবা তাদের পরিবারের কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভজনক পদ দখল করে আছেন। এর অনেক উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। যেমন, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের এক সদস্য সেই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ভিসি পদ অলংকৃত করে রেখেছেন।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দখল করে রেখেছেন স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ এবং বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের অপর এক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জনসংযোগ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়টির হিউম্যান রিসোর্স ও প্রশাসনসহ আরও দুটি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট। অর্থাৎ তিনি মোট পাঁচটি পদ দখল করে আছেন।

বলাবাহুল্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের যেসব সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভজনক পদেও দায়িত্ব পালন করছেন, তারা নিয়ে চলেছেন মোটা অঙ্কের টাকা। পাশাপাশি কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় বিলাসবহুল গাড়িতেও চড়ছেন তারা।

বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভজনক পদে থাকাটা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনেককাল আগে থেকে এ ব্যাপারে কেন নিশ্চুপ ছিল তা এক প্রশ্ন বটে। মঞ্জুরি কমিশন সম্প্রতি গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

এ আদেশে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসি ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের লক্ষ্যে ২০১১ সালের জুলাই মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল, তার আলোকে এই তিন পদে নিয়োগ বা পুনঃনিয়োগের লক্ষ্যে ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের শর্তাবলী পূরণসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টিজ বোর্ডের সদস্য নন, প্রতিটি পদের বিপরীতে এমন তিনজন ব্যক্তির নামের প্রস্তাব যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। একইসঙ্গে ১৮৮২ সালের ট্রাস্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী বোর্ড অব ট্রাস্টিজের কোনো সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না।

আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাম্প্রতিক অফিস আদেশটি পালিত হচ্ছে কিনা, তা মনিটর করে আইন লঙ্ঘনকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুধু ভিসি, প্রোভিসি ও কোষাধ্যক্ষই নয়, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের কোনো সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না- এটিও নিশ্চিত করতে হবে। দেখা গেছে, আইন লঙ্ঘন করে কেউ কেউ একাধিক পদ দখল করে মাসে ৫-৭ লাখ টাকা বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। এই ধারা আর চলতে দেয়া যাবে না।
সৌজন্যে: যুগান্তর
এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর