শনিবার ২৫ মে, ২০১৯ ১৬:৫৩ পিএম


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মান উন্নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:২৫, ৩ মে ২০১৯  

শিক্ষা উদারীকরণের পরে গত ২৭ বত্সরে দেশে মোট ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। অনিয়মের কারণে একটি বন্ধ হইবার পরে দেশে এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৪টি। এই মুহূর্তে মোট ৯৫টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলিতেছে; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হইলেও সত্য যে, এইগুলির ২০ শতাংশে উপাচার্য আর ৭৫ শতাংশে সহ-উপাচার্য নাই। এগুলির অর্ধেকের বেশি চলিতেছে কোষাধ্যক্ষ ছাড়া। এমনকি কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বেআইনিভাবে নিজেরাই ‘ভারপ্রাপ্ত’ উপাচার্য নিযুক্ত করিয়াছে। বস্তুত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বড় অংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিয়মকানুন না মানা, নিয়মিত বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদন না দেওয়া, শিক্ষার নিম্ন মান অথবা যথেচ্ছ ফি আদায়ের অভিযোগ আছে। একাডেমিক কাউন্সিলের সভাও ঠিকমতো হয় না। গবেষণায় বরাদ্দ অপ্রতুল বা আদৌ নেই। অথচ, অনুমোদনের জন্য এখনও শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন জমা পড়িয়া আছে মন্ত্রণালয়ে। ইউজিসি ও শিক্ষাবিদদের মূল্যায়নে বড়জোর ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে বা মোটামুটিভাবে চলিতেছে। বাকিগুলি কোনো না কোনোভাবে আইনের শর্ত ভঙ্গ করিতেছে। সকল শর্ত পূরণ করিয়াছে মাত্র ৩টি।

ইউজিসির তালিকা অনুযায়ী, ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় ঠিকঠাক নিজস্ব ক্যাম্পাসে গিয়াছে। সাত বত্সরের বেশি বয়সী ৫৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪টি এখনো নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাইবার শর্ত পুরোপুরি পূরণ করেনি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সরকার ছয়বার সময় দিয়াছিল। ইউজিসির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সাড়ে ৩ লক্ষ। শিক্ষাখরচ অনেক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে মোট শিক্ষক আছেন ১৬ হাজারের মতো। তাহাদের প্রায় ৩২ শতাংশই খণ্ডকালীন, বিশেষত অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদে। এইসকল অনিয়ম কিছুতেই রোধ করা যাইতেছে না। উপরন্তু, ২০০১ হইতেই রাজনৈতিক যোগসূত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে প্রবণতা পরিলক্ষিত হইতেছে, তাহাও বেগবান হইয়াছে। বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, রাজনৈতিক যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয় পাইয়া তাহার মান খুব ভালো করিলে কিন্তু আপত্তি ওঠে না। সুতরাং শিক্ষার মান নিশ্চিত করিতে পারিবে, এমন উদ্যোগকেই অনুমোদন দেওয়া উচিত।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রটি বর্তমানে বাণিজ্যিক লাভ লোকসানের খেরো খাতায় পরিণত হইয়াছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা নিয়া দ্বন্দ্ব রহিয়াছে। অনেক মালিক অনৈতিকভাবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তর করেন। কিছু বলিতে গেলে এমনকি ইউজিসিকেও চোখ রাঙানি দেখিতে হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ২০১৪ সালের গবেষণা প্রতিবেদনে বলিয়াছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়িবার অনুপাতে মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির জন্য বরাদ্দ ও জনবল বাড়ে নাই। এইক্ষেত্রে কোনো সুষ্ঠু ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও দৃষ্টিগোচর হইতেছে না। ইতোপূর্বে সমীক্ষায় দেখা গিয়াছে মাত্র গোটা দশেকের মান ভালো, কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান মোটামুটি চলনসই। আর বাকিগুলি একেবারেই মানহীন। অথচ তাহাদের মানোন্নয়নের কোনো প্রচেষ্টা নাই। এইসকল নিম্নমানের বিশ্ববিদ্যালয় হইতে শিক্ষা নিয়া তরুণেরা সমাজের উপকারে না লাগিয়া আপদ হইয়া উঠিতেছে বলিয়াই অনেকে মনে করেন। উচ্চশিক্ষা বিস্তারে সরকারের আন্তরিকতা ও উদ্যোগগুলিকে আমরা সর্বতোভাবে সাধুবাদ জানাই; কিন্তু বর্তমান প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় উচ্চশিক্ষার নামে এইরূপ যথেচ্ছাচার কোনোভাবেই কাম্য নহে।

আজকের ইত্তেফাকের একটি সম্পাদকীয়

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর