শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২০ ১৪:০১ পিএম


বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ঐচ্ছিক বদলি প্রথা দ্রুত চালু হউক

মো.আবুল হোসেন

প্রকাশিত: ০৯:১৬, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বাংলাদেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা চালু হওয়ার হওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি বদলি প্রথার। দিন যায় রাত আসে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে। নিজ জেলা কিংবা থানার বাইরে চাকরি করার ফলে দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। আয়ের সাথে ব্যয়ের নেই মিল। সংসার চালাতে তাই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে বাস্তব জীবনে। বর্তমান সময়ে জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে সত্য কিন্তু দুঃখের বিষয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন যাত্রার মানের হলো কোন পরিবর্তন। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া পায় মাত্র ১০০০ টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা পায় মাত্র ৫০০ টাকা। আর সরকারি অংশ যা পায় তা থেকেও অবসর ও কল্যান তহবিল নামে সর্বমোট কর্তন করা হয় ১০ শতাংশ হারে যা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। মূুল স্কেলের সিংহভাগ চলে যায় এই কর্তনের ফলে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তাই দূর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে বর্তমান সময়ে। বাংলাদেশের কোথাও ১০০০ টাকায় বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায় কিনা সেটা কতৃপক্ষের ভেবে দেখা একান্ত জরুরি।

বহু দিনের লালিত স্বপ্ন বদলি প্রথা ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে আলোচনার শীর্ষে ছিল। বহুবার আলোচনা এবং পর্যালোচনা হয়েছিল বদলি প্রথা চালু করার ব্যাপারে শুনা যাচ্ছিল বদলি প্রথা চালুর জন্য আলাদা সফটওয়্যারে কাজ চলছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই আশা আজ শুধুই হতাশা। বাস্তবতা হলো যেই লাউ সেই কদু। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের হলোনা কোন পরিবর্তন। ট্রেন চলেছে অজানা গন্তব্যে।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এমপিও নীতিমালায় বদলি প্রথার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবতা হলো ভিন্ন নেই তার প্রয়োগ। এমপিও নীতিমালা এখনো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বাস্তবায়ন হয়নি। বদলি প্রথা নিয়ে চলছে ম্যাজিক ম্যাজিক খেলা । বদলি প্রথা চালু করা নিয়ে নেই কোন বাস্তবমুখী পরিকল্পনা। বদলি প্রথার বিষয়ে বেশ কয়েক বার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। কে নিবে দায়িত্ব এ নিয়ে চলছে মতানৈক্য? মাউশি নাকি NTRCA । এখনো পর্যন্ত জানা গেল না বদলি প্রথার দায়িত্ব কার হাতে ন্যস্ত। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আজ হতাশায় নিমজ্জিত। বদলি প্রথা চালু হবে নাকি অন্ধকারে ডুবে যাবে।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন আইনের মার পেঁচে বন্দি।আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক তাই এত অবহেলা ।বদলি প্রথার কার্যক্রম সচল না অচল বুঝার কোন উপায় নেই আছে শুধু আলোচনা হচ্ছে হবে। আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রথা চালুর জন্য এটার নেই ইয়াত্তা । সরকারি শিক্ষকরা বদলি হতে পারবে কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নন। এ কেমন নিয়মনীতি। কারিকুলাম এক, পাঠ্যপুস্তক এক তবুও শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরাট ফারাক এ যেন মনে হচ্ছে বিমাতাসুলুভ আচরণ। সরকারির ন্যায় সুযোগ সুবিধা নেই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের।
২০১৯ সাল অতিবাহিত হয়ে গেল তবুও এখনো পর্যন্ত বদলি সিস্টেমের কোন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। যেখানে বদলি সিস্টেম চালুর প্রক্রিয়ার সংবাদ প্রকাশ করে সরকার প্রশংসা কুড়িয়ে ছিলেন। আজ তা আস্তে আস্তে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বদলি সিস্টেম নিয়ে কোন কার্যক্রম লক্ষ্যনীয় নয়। নেই কোন পদক্ষেপ। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বপ্ন আজ চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছে মনে হচ্ছে।
চাকরির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানে কর্ম জীবন অতিবাহিত হয়। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাস্তব জীবন। নির্দিষ্ট গন্ডির বাইরের জগৎটাকে ঘুরে দেখার নেই তো কোন উপায়। বছরের পর বছর একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ফলে এক রকম হতাশায় অতিবাহিত হয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি জীবন । যেখানে বদলি প্রথার মাধ্যমে নতুন পরিবেশে নতুন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়। অভিজ্ঞতাই এনে দিতে পারে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন। শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতিতে আনতে পারে পরিবর্তন।
শিক্ষিত জাতি দেশের উন্নয়নের রুপকার । শিক্ষিত জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে শিক্ষক সমাজ । শিক্ষা ব্যবস্থায় তাই শিক্ষকদের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাণ ফিরে আনতে প্রয়োজন বৈষম্য মুক্ত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। শিক্ষা ব্যবস্থায় বদলি প্রথা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি পেশায় আছে বদলি প্রথা। শুধু বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই বদলি প্রথা। বদলি প্রথার মাধ্যমে প্রতিটি পেশার কাজের গতি সঞ্চার করা হয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় বদলি প্রথা এনে দিতে পারে গতিশীলতা। শিক্ষার মান উন্নয়নে বদলি প্রথা জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের মনোযোগ বাড়াতে বদলি একান্ত প্রয়োজন। বদলির মাধ্যমে নিত্য নতুন অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ শিক্ষক তৈরি হবে। শিক্ষকরা পাঠদানের প্রতি মনোযোগী হবে। শিক্ষার্থীরা হবে উপকৃত। শ্রেণি পাঠদানের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সিন্ডিকেট দূর হবে। কোচিং বাণিজ্যের হার কমে আসবে। শিক্ষা ব্যবস্থা গতিশীল করতে প্রয়োজন বদলি প্রথা চালু করা। বদলি প্রথার মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি পরিবর্তন সম্ভব। শিক্ষকরা নিত্য নতুন তথ্য উপাত্ত জানার চেষ্টা করবে । নতুন পরিবেশে প্রত্যেকে নিজকে মেলে ধরার চেষ্টা করবে। শিক্ষকরা নতুন নতুন তথ্য উপাত্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করবে। এতে শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশ গঠবে । শিক্ষা ব্যবস্থায় আসবে আমুল পরিবর্তন। একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ফলে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় না। বদলি প্রথার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়। নতুন পরিবেশে পাঠদান পদ্ধতির পূর্বের ভুল গুলো সংশোধন করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে। বেশি দিন দূর দূরান্তে চাকরি করার ফলে শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করে। আর এই হতাশার প্রভাব পড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। যা শিক্ষা ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে স্থবিরতা এনে দিবে। শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে তাই বদলি প্রথা একান্ত জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান প্রক্রিয়ায় গতি সঞ্চার করতে বদলির বিকল্প কিছু হতে পারে না। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি অংশ বা অনুদান সহ যে সামান্য বাড়ি ভাড়া পাই তা দিয়ে সংসারের ভরনপোষণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। সংসার চালানোর টাকা জোগাড় করতে হিমসিম খাচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। শিক্ষকদের পিছুটান দূর করতে না পারলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শিক্ষকদের আগে করতে হবে স্বাবলম্বী।

বর্তমান বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকরা সর্বোচ্চ সম্মানিত এবং এই শিক্ষকতা পেশায় সব মেধাবীরা নিজ আগ্রহে এগিয়ে আসে। কিন্তু বাংলাদেশের মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চায় না কারণ বর্তমানে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের সকল পেশার চাইতে শিক্ষকতা পেশায় সুযোগ সুবিধা কম।নেই পেনশনের সুযোগ সুবিধা, নেই গৃহঋণের সুযোগ সুবিধা, নেই সন্তানের শিক্ষা ভাতা এমনকি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য জরুরি বদলি প্রথা। তাই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় মেধাবীদের আনতে প্রয়োজন বৈষম্যবিহীন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

বর্তমান সময়ে নিজ জেলায় চাকরির সুযোগ না পেয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সিংহ ভাগ শিক্ষক চাকরি করেন। কেউ কেউ নিজ জেলা বা থানা থেকে বিভিন্ন জেলায় চাকরিরত আছেন। দূর দূরান্তে চাকরি করার ফলে কারণে অকারণে আজ শিক্ষকরা হচ্ছেন নির্যাতিত। কেউ কেউ আজ হারাচ্ছেন চাকরি। এই বাস্তবতার কারণে আজ বাংলাদেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রথা চালু করা যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী সহ দায়িত্ব প্রাপ্ত সকল কর্মকর্তা গণের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি আপনারা সম্মিলিত ভাবে বদলি প্রথা চালু করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে বৈষম্যের বেড়াজাল থেকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মুক্ত করুন।


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর