মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২০ ৫:২৩ এএম


বেতারের মাধ্যমেও প্রাথমিকস্তরের শিশুদের পাঠদান প্রচারের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫:১৪, ১৪ মে ২০২০   আপডেট: ০৫:১৪, ১৪ মে ২০২০

টেলিভিশনের পর এবার বেতারের মাধ্যমেও প্রাথমিকস্তরের শিশুদের পাঠদান প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের শব্দ ধারণ করে তা প্রচার করা হবে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে এটি প্রচার করা হবে। পরে অন্যান্য বেসরকারি রেডিও স্টেশনের মাধ্যমেও প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে এ প্রচার শুরু হতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন কাছে এ উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এটা নিয়ে কাজ করছে। জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প এবং ইউনিসেফ এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ গতকাল বুধবার বলেন, টেলিভিশনের পর আমরা এবার বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে প্রাথমিকের পাঠ প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। টেলিভিশনে চিত্র দেখিয়ে শিশুদের বোঝানো যায়। রেডিওতে কোনো কিছু না দেখিয়ে, কেবল শুনিয়ে নির্দিষ্ট পড়াটা কীভাবে শিশুকে বোঝানো যাবে, তা নিয়ে আমরা এখন কাজ করছি। কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছি। এখন দুটি ডেমো ক্লাস রেকর্ড করে তা শুনে বিশ্নেষণ করে বোঝার চেষ্টা করছি যে, শিশুরা কতটুকু বুঝতে পারবে।

মহাপরিচালক জানান, এটুআই এ কাজে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। আর ইউনেস্কো এর জন্য সরকারকে এক লাখ ডলার দিয়েছে। আপাতত বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে এই পাঠ প্রচার শুরু হতে যাচ্ছে। তবে অন্যান্য বেসরকারি রেডিও স্টেশন যদি জাতির স্বার্থে টোল ফ্রি সুবিধা দেয়, সেখানেও এই পাঠ প্রচার করা হতে পারে।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল থেকে সংসদ টেলিভিশনে শুরু হয়েছে প্রাথমিক স্তরের ক্লাস সম্প্রচার। আর গত ২৯ মার্চ থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের (৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি) প্রতিদিন আটটি করে ক্লাস সংসদ টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বেতারে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের ক্লাস প্রচার করা হবে। প্রতিটি ক্লাস ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের হবে। রেডিওতে শিক্ষক পাঠদান করা বিষয়ের ওপর বাড়ির কাজ দেবেন। শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা খাতায় বাড়ির কাজ করতে হবে। স্কুল খুললে তার শিক্ষকদের কাছে তা জমা দিতে হবে।

বেতারে পাঠদানের বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, উদ্যোগটি ভালো। এতে নতুন আরও কিছু শিশুকে পাঠদানের আওতায় নিয়ে আসা যাবে, যাদের টেলিভিশন দেখার সুযোগ ছিল না। তবে আমি বলব, এফএম রেডিওগুলোকেও ব্যবহার করতে। তাদেরও দায় রয়েছে। আর বড় করপোরেট হাউসগুলো এই মহতী কাজে তাদের সিএসআর ফান্ড নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে।

তবে রেডিওতে ক্লাস প্রচারের সফলতা নিয়ে সন্দিহান শিক্ষকদের অনেকে। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ গাছুয়া দক্ষিণ পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ সারোয়ার রাসেল বলেন, রেডিওর মাধ্যমে শুধুই শিক্ষকের কণ্ঠ শোনা যাবে। কেবল শব্দ দিয়ে শিখনফল অর্জন কতটা সম্ভব তা প্রশ্নসাপেক্ষ। ঝিনাইদহ সদরের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইদুর রহমান টুটুল বলেন, কিছু শিক্ষার্থীর উপকার হবে। সবার উপকৃত হওয়ার সুযোগ নেই। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, সত্যি কথা বলতে কী- রেডিও এখন কেউ ব্যবহারই করে না তেমন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, বর্তমানে খুব বেশি মানুষ রেডিও ব্যবহার করে বলে আমার মনে হয় না। সাধারণ মানুষ যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, সেগুলোতে এফএম রেডিও রয়েছে। তবে নেটওয়ার্ক ফ্রিকোয়েন্সি সমস্যার কারণে রেডিওর প্রোগ্রাম শোনা যায় না। তাই মোবাইল কোম্পানিগুলো যদি সাধারণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সব মোবাইলে রেডিও চ্যানেল যুক্ত করে নেয়, তাহলে সেখানে পাঠ প্রচার করা হলে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ অনেকটা ফলপ্রসূ হবে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর