বুধবার ০৩ জুন, ২০২০ ১১:৩১ এএম


বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ভূতবিদ্যা'

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩৪, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯  

ভূত দেখে ভয় পাওয়া, ভূতের আছর বা ভূতে ধরা- বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক মানুষ এসবে বিশ্বাস না করলেও অনেকে তা মানেন। দীর্ঘদিন ধরে তন্ত্রমন্ত্র বা ঝাড়ফুঁকই ভূত-সংক্রান্ত রোগ থেকে মুক্তির প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে এসব রোগী চিকিৎসকদের কাছেও আসেন। অর্থাৎ সামাজিকভাবে `ভূত`-সংক্রান্ত রোগকে স্বীকার করা হয়। আর এ বিষয়কে মাথায় রেখে চিকিৎসকদের জন্য উচ্চতর কোর্স চালু করেছে ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর বারানসির বানারস হিন্দু ইউনিভার্সিটিতে (বিএইচইউ) জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে এ কোর্স।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ভূতবিদ্যা কোর্সে শারীরিক ও মানসিকবিষয়ক রোগ বা সাইকোসোম্যাটিক ডিজঅর্ডার সম্পর্কে পড়ানো হবে। এ রোগকে প্রায়ই অলৌকিক ঘটনা বা ভৌতিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে ভূত-সংক্রান্ত রোগ বলে ভুল করা হয়। কোর্সটি পরিচালনা করবে আয়ুর্বেদ অনুষদ। আয়ুর্বেদকে ওষুধ এবং আরোগ্য লাভের প্রাচীন ব্যবস্থা বলে মনে করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভূতবিদ্যা শেখানোর জন্য আলাদা একটি ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আয়ুর্বেদ অনুষদের ডিন ইয়ামিনি ভূষণ ত্রিপাঠি বলেন, ভূতবিদ্যা মূলত সাইকোসোম্যাটিক ডিজঅর্ডার নিয়ে কাজ করবে। সাইকোসোম্যাটিক এক ধরনের শারীরিক ভারসাম্যহীনতা, যার কারণ অজানা। এটি মন ও দেহের বিশেষ ধরনের অবস্থা। তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশে প্রথম এ ধরনের একটি কোর্স শেখানোর সুযোগ করেছে, যা চিকিৎসকদের ভূতবিষয়ক অসুস্থতায় আয়ুর্বেদ উপায়ে নিরাময়ের সেবা দেওয়া শেখাবে। ২০১৬ সালে ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সের গবেষণায় জানা যায়, ভারতের ১৪ শতাংশ মানুষের মানসিক সমস্যা রয়েছে। ২০১৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ২০ শতাংশ ভারতীয় জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে অবসন্নতায় ভোগে। অথচ তাদের জন্য ভারতে চিকিৎসক মাত্র চার হাজার। সূত্র :বিবিসি।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর