শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২০ ৭:১০ এএম


বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:২৭, ৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৩:০৮, ৯ অক্টোবর ২০২০

এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের পর ‘উত্তীর্ণ’ শিক্ষার্থীদের এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে কখন ও কীভাবে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে— এটাই পাশ করা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের প্রধান প্রশ্ন।

এবার পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৬৫ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা না হওয়ার কারণে এবার সবাইকে পাশ হিসাবে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন করে এইচএসসির ফল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। এর পরই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে—এমনটি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী শীত মৌসুমে দেশে করোনার প্রকোপ আরো বাড়বে। ফলে ডিসেম্বরের পর থেকে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চ এই সময়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পরই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমরা আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সমন্বিত পদ্ধতিতে নিতে পারব। সেটা গুচ্ছ পদ্ধতিতে কীভাবে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে করা হবে। তখনকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখনো তিন মাস সময় রয়েছে।

আগামী ১৫ অক্টোবর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাস নিয়ে উপাচার্যদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কি পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন স্তর আমাদের আছে। জেনারেল অ্যাডমিশন কমিটি, ডিনস কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলে এসব বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিগিগরই এসব আলোচনা শুরু করা হবে।

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেবে কি না ও করোনার মধ্যে শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে উপস্থিত হয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, এর প্রতিটি বিষয়ই ঐসব কাউন্সিল ও কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকার যেহেতু এইচএসসির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে এবার আমাদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে। পরিস্থিতি ভালো হলে অবশ্যই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

দেশে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫ হাজার আসনে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করাব। এক্ষেত্রে তিনটি গুচ্ছ হবে। এগুলো হচ্ছে—কৃষি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেছেন, শীর্ষ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় না এলেও বাকিদের নিয়ে আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সমন্বিতভাবে পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তি এখন সময়ের দাবি। গোটা ভারতে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। সেখানে আমাদেরও পারার কথা।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর