সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ৩:২৮ এএম


স্কুল মেরামতের নামে আজব বিল-ভাউচার প্রধান শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৩০, ২ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৯:০২, ২ অক্টোবর ২০১৯

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিদ্যালয় মেরামতের নামে আজব বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষক তাপস চন্দ্র কর্মকারের বিরুদ্ধে। সেই বিল-ভাউচারে বৈদ্যুতিক সুইচের দাম ৪৫০ টাকা, বাল্বের দাম ৮৫০ টাকা আর একটি কারেন্ট মোটরের দাম ২৫ হাজার টাকা ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে। তাপস চন্দ্র কর্মকার উপজেলার খোর্দ্দ বিছনদই মাহাতাব উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

শুধু তাই নয়, বিদ্যালয় ভবনটি নবনির্মিত রঙিন টিনশেডের হলেও ডিস্টেম্বর পেইন্ট ৪ ড্রাম রঙের নামে ৩২ হাজার টাকা ব্যয় ভাউচারে দেখানো হয়েছে। এ ভাবে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩ শ টাকার আজব বিল উপজেলা হিসাবরক্ষক অফিস থেকে পাস করাও হয়েছে। তবে বাজারে একটি বৈদ্যুতিক সুইচের দাম সর্বোচ্চ ৩০ টাকা, একটি ১২ ওয়াটের এলইডি বাল্বের দাম সর্বোচ্চ ২৮০ টাকা, দেড় হর্সের একটি কারেন্ট মোটরের দাম সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ হাজার টাকা।

তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পিইডিপি ৪ প্রকল্পের আওতায় হাতীবান্ধা ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লাখ টাকা করে ও রাজস্ব খাত প্রকল্পের আওতায় ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় লাখ টাকা করে মোট ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। গত অর্থবছরেই জুন ক্লোজিং এর আগেই প্রতিটি বিদ্যালয় কাজ শেষ করে বিল-ভাউচার জমা দিতে হয়। আর সেখানে এই আজব বিল-ভাউচার দিয়েছেন খোর্দ্দ বিছনদই মাহাতাব উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস চন্দ্র কর্মকার। তবে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্বের কারণে বরাদ্দকৃত দুই লাখ টাকা এখনও উত্তোলন করা হয়নি।

শুধু খোর্দ্দ বিছনদই মাহাতাব উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয় বরাদ্দকৃত উপজেলার ৩৭টি বিদ্যালয় নামমাত্র কাজ করে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

খোর্দ্দ বিছনদই মাহাতাব উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস চন্দ্র কর্মকার বলেন, বিল-ভাউচারটির বিষয়ে আমি কোনো কথা বা বক্তব্য আমার নাই। হাতীবান্ধা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) সোলেমান মিয়া বলেন, প্রধান শিক্ষকগণকে বলা হয়েছে কাজ শেষ করে পরিচালনা কমিটির রেজ্যুলেশন জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে। কিন্তু তারা রেজ্যুলেশন নিয়ে না আসলে আমরা কিভাবে টাকা দেব। এ ছাড়া কেউ কোনো ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর