সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২:০৪ এএম


বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়েই ৩২৭ শিক্ষার্থীকে পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:০১, ২৪ আগস্ট ২০১৯  

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের ৬ কক্ষবিশিষ্ট পাকা ভবনটিতে ফাটল এবং ছাদের পলেস্তারা খুলে শিক্ষার্থীদের গায়ে ও মাথায় পড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর মাঝেই আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে শিশু শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে ১৯৯৪ সালে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে, ২৫ বছরের পুরনো ওই ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে প্রায় ৩২৭ জন শিক্ষার্থী। ভবনের ছাদের পলেস্তারা খুলে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের গায়ে এবং মাথায় পড়ছে। ফলে ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। সবসময় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে তাদের। আতঙ্কে থাকছেন শিক্ষক-অভিভাবকরাও।

বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র মিনহাজ ও সৌরভ জানায়, আমরা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করি। এর আগে বেশ কয়েকবার পলেস্তারা খুলে আমাদের গায়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবারও অল্পের জন্য আমাদের এক সহপাঠী রক্ষা পেয়েছে। পলেস্তারা তার মাথায় না পড়ে গায়ে পড়ায় সে বেঁচে যায়। ক্লাসের এ অবস্থার জন্য অনেকে ক্লাসে আসতে চায় না।

আখতারুজ্জামান নামের এক অভিভাবক জানান, এমন অবস্থায় ছেলেকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় লাগে। কখন ছাদের পলেস্তারা খুলে মাথায় পড়ে এই আশঙ্কায় থাকি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা খাতুন বলেন, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টিতে আশপাশের ১৭টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে গত কয়েক বছর ধরে পার্শ্ববর্তী কৈকুড়ি বিদ্যালয়ে সাব-সেন্টার করে ৭টি বিদ্যালয়ের পিইসি পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে এ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি শ্রেণিতে শাখা করা প্রয়োজন। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যালয়ে জন্য একটি নতুন দ্বিতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন থাকায় বর্তমান ভবনটির জীর্ণ দশা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি সুলতান আহম্মেদ জানান, একদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকট, অপরদিকে ভবনের পলেস্তারা খুলে পড়তে থাকায় আমরা মহাবিপদে পড়েছি। বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভালো হলেও বর্তমানে শ্রেণিকক্ষের এমন অবস্থায় পাঠদানে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

আদমদীঘি উপজেলা শিক্ষা অফিসার সামছুল ইসলাম দেওয়ান জানান, বিষয়টি জানার পর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারকে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন সম্পন্ন হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠোনো হবে।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর