শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২০ ৫:১৫ এএম


বিদেশ ফেরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৩০, ২০ মার্চ ২০২০  

সম্প্রতি দেশের যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ কিংবা ব্যক্তিগত কাজে সরকারি ছুটি নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন তাদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিন ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদেশ ভ্রমণ ‘মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক’ হওয়ায় নতুন করে বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করা হয়েছে। প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বৃহস্পতিবার বিকেলে  বলেন, ইতিমধ্যে যেসব শিক্ষক-কর্মকর্তারা বিদেশে প্রশিক্ষণ বা ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরেছেন তাদের সবাইকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছি। একই সঙ্গে আমাদের সকল দপ্তরের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কানাডার টরেন্টোতে প্রশিক্ষণে অংশ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ সদস্যের একটি দল। সেখানে ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে গত ৯ মার্চ একই এয়ারলাইন্সে তারা দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। মার্চের শুরুতেই যারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন- তাদের সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও সেটি তারা মনেননি। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরের ডাকে ‘দেশে ফিরে হোম কোয়ারেন্টাইনে যাননি সরকারের ১১ কর্মকর্তা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ওইদিনই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা এসেছে।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব আবু নাসের বেগ স্বাক্ষরিত জারি করা আদেশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থা থেকে প্রতিনিয়তই বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি (সরকারি ও ব্যক্তিগত) প্রদানের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে (কোভিড-১৯) বিদেশ ভ্রমণ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক।

এমতাবস্থায় অধীন অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থাকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া সংক্রান্ত প্রস্তাব আপাতত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ বিভাগে প্রেরণ না করা। সরকার ঘোষণা দেওয়ার পর ইতোমধ্যে যারা বিদেশ ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরেছেন তাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ বাড়িতে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় দাপ্তরিক কার্যাদি যাতে বিঘ্নত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক অনলাইন ও ই-নথিতে দাপ্তরিক কার্যাদি সম্পাদনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে ঢাকা কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর শরিফা সুলতানা দুই মাসের ভ্রমণ শেষে গত ১৬ মার্চ দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দেশে ফিরেই তিনি ১৭ মার্চ কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী’র একটি প্রোগ্রামে অংশ নেন এবং সবার সাথে সেলফি তুলেন। এতে তার উপস্থিতিতে অন্য সহকর্মীরা বিব্রতবোধ করেন। এক পর্যায়ে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে যেতে বললে তিনি বাক-বিতন্ডায় জড়ান এবং বলেন- আপনারা যারা বাংলাদেশে আছেন তারা অনিরাপদ, আমি আমেরিকা থেকে এসেছি, সুতরাং আমি নিরাপদ। এ বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ এটিএম মইনুল হোসেন বলেন, অধ্যক্ষ মহোদয় উনাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে যেতে বলেছেন। তিনি এখন বাসায় আছেন। অন্যদিকে সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তিন প্রকৌশলী। এদের তিনিজনই মার্চের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরেছেন। তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যাপারে জানতে জাইলে এ দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আখতার ভোরের ডাককে বলেন, তাদের অলরেডি ১৪ দিন হয়ে গেছে। কোনো ধরনের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ৯ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ সদস্যের একটি দলের সবাই দেশে ফিরলেও শুধুমাত্র সচিবের একান্ত সচিব কাজী শাহজাহান হোম কোয়ারেন্টাইনে গিয়েছেন। আর ১০ জন রীতিমতো অফিস করছেন।

বাকিরা হচ্ছেন- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন-২) মো. ফজলুর রহমান, পরিকল্পনা শাখার যুগ্ম-প্রধান কাজী মনিরুল ইসলাম, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. মকবুল হোসেন, কুমিল্লা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আব্দুস সালাম, বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস, দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর সিদ্দিক, ময়মনসিংহ বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: গাজী হাসান কামাল, কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোরাদ হোসেন মোল্লা, ব্যানবেইজের পরিচালক মো. ওসমান ভূঁইয়া এবং এস্টাবলিস্টমেন্ট অব ‘ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রকল্পের পরিচালক মো. সামসুল আলম।

সরকারি হিসেবে বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ১৮ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ১৮ মার্চ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনা ভাইরাস সন্দেহে বিভিন্ন স্থানে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন হাজারো মানুষ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর