বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২০ ৬:৪৪ এএম


বিদেশে পড়তে যেতে পিটিই

আবদুর রাজ্জাক সরকার

প্রকাশিত: ০৯:২২, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যারা বিদেশে পড়তে যেতে যান, তারা এখন অনেকেই পিটিই (পিয়ারসন টেস্ট অব ইংলিশ) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় স্কোর তুলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়তে যাচ্ছেন। পিটিই পরীক্ষা শতভাগ কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এখানে থাকে না পরীক্ষকের সামনে বসার ভীতি এবং দ্রুত দু`একদিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কারণে এটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে জানান আরুশা। ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য বহুল প্রচলিত আইইএলটিএস এবং টোফেলের মতো পিটিইও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ইংরেজি ভাষাভাষী নন এমন শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য পিয়ারসন টেস্ট অব ইংলিশ (পিটিই) যাত্রা শুরু করে ২০০৯ সালে। যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা পিয়ারসনের শিক্ষামূলক প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে পিটিই অন্যতম। বাংলাদেশে পিটিই চালু হয় ২০১৫ সালে।

আইইএলটিএস পরীক্ষার ৯ ব্যান্ড নম্বরকে পিটিইয়ের ক্ষেত্রে ৯০ নম্বর ধরা হয়। পিটিইতে ডিসেম্বর মাসে পরীক্ষা দিয়ে ৯০-এর মধ্যে ৯০ পাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাকিব নূর ফারহান বলেন, পিটিই পরীক্ষা শতভাগ কম্পিউটারের মাধ্যমে নেওয়া হয়। তাই এটা অনেক বাস্তব জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য। যদি কারও ইংরেজির বেসিক ভালো থাকে তাহলে তিন সপ্তাহে ৪ ঘণ্টা করে পড়ে পিটিইতে ৫০-৬০ নম্বর পাওয়া সম্ভব বলে জানান সাকিব। পিয়ারসন বাংলাদেশের রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার এম. জহির উদ্দীন বলেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের সব বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের দুই হাজারেরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়, ইংল্যান্ডের ৯৮ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কানাডার ৯০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণের জন্য পিটিই স্কোর গ্রহণ করে থাকে। এ ছাড়া ইউরোপের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিই স্কোর দিয়ে পড়তে যাওয়া যায়।

বর্তমানে ঢাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান বা কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পিটিই পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতিতে সহায়তা করছেন। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত `নেইম্যান এডুকেশন` নামের একটি স্টাডি সেন্টার পিয়ারসনের প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করে সার্টিফায়েড ট্রেনিং সেন্টারের স্বীকৃতি পেয়েছে। নেইম্যান এডুকেশনের চিফ ট্রেইনার ও পরিচালক মো. সিরাজুম্মুনীর বলেন, ইংরেজির দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষাগুলোয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পিটিইয়ের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার অন্যতম কারণ। পিটিই`র নম্বর বণ্টন ও সমন্বিত নম্বর ব্যবস্থা বুঝে ব্যবহারিক দক্ষতার (রিয়েল লাইফ স্কিল) যেমন কম্পিউটারের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর যোগ্যতা, জাতীয় পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা, অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতার উন্নয়ন করতে পারলে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন সম্ভব। ইতোমধ্যে নেইম্যান এডুকেশনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী পিটিইতে শতাংশের মধ্যে ৯০ স্কোর অর্জন করেছেন, যা আইইএলটিএসের ব্যান্ড স্কোর ৯-এর সমতুল্য।

পিয়ারসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু পড়তে যাওয়া নয়, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যও পিটিই ব্যাপক গ্রহণযোগ্য।

এ ছাড়া গত ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, সেখানেও সব ভিসা আবেদনে পিটিই পরীক্ষার স্কোর দিয়ে আবেদন করা যাবে। বিশেষ করে যারা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যুক্তরাজ্যে যেতে চান, তারা পিটিই পরীক্ষার স্কোর দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। কম্পিউটারনির্ভর এই পিটিই পরীক্ষার মোট সময় ৩ ঘণ্টা। পরীক্ষার্থীকে তিনটি আলাদা ধাপে পরীক্ষা দিতে হয়। প্রথম ধাপে রয়েছে স্পিকিং ও রাইটিং (মৌখিক ও লিখিত)। দ্বিতীয় ধাপে রিডিং (পড়া) এবং তৃতীয় ধাপে লিসনিং (শ্রবণ)। পিটিইতে নাম্বারিংয়ের জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হয়। ঢাকার ধানমন্ডি ও উত্তরায় দুটি পিটিই পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। সরকারি ছুটির দিন বাদে বাকি দিনগুলোয় প্রতিদিন দুটি সেশনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পিটিই-সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য জানতে তাদের অফিসিয়াল সাইট (https://pearsonpte.com) থেকে সাহায্য নিতে পারেন যে কেউ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর