সোমবার ০১ জুন, ২০২০ ৪:২৩ এএম


টিভিতে পাঠদান:যেসব সমস্যার সম্মুখীন শিক্ষার্থীরা

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ১১:৫৩, ১ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৬:১৯, ১ এপ্রিল ২০২০

ছুটিতে থাকা মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য গত রোববার থেকে সংসদ টিভিতে শুরু হয়েছে ডিজিটাল পাঠদান। প্রথম দিন ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, সপ্তম শ্রেণির আইসিটি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণির গণিত, ইংরেজি এবং নবম শ্রেণির গণিত, আইসিটি বিষয়ের ক্লাস প্রচার করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব ক্লাস দেখানো হয়। পাঠদানের এ উদ্যোগে আনন্দিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

তবে বেশকিছু বাস্তব সমস্যায়ও পড়েছেন তারা। সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করেছে হোয়াইট বোর্ডের ব্যবহার। কারণ টিভির সামনে বসা শিক্ষার্থীরা হোয়াইট বোর্ডে শিক্ষকের লেখা কোনো টেক্সটই দেখতে পারেনি। ক্লাসগুলোর রেকর্ডে থাকা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও তাদের মনঃসংযোগে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের অভিভাবক সমকালকে জানিয়েছেন, সন্তানকে নিয়ে নির্দিষ্ট ক্লাসের পাঠ প্রচারের সময় টেলিভিশনে বসলেও সংশ্নিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় তারা তা দেখতে পাননি। অনেক এলাকায় কেবল সংযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা এ ক্লাস থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ছুটিতে থাকা শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করায় সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তবে এ ক্লাসগুলো বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচার করা হোক। কারণ দেশের অনেক এলাকায় কেবল সংযোগ নেই এবং বহু দরিদ্র পরিবারে এ সংযোগ নেওয়ার সামর্থ্য নেই।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক  বলেন, এভাবে পাঠদান দেশে অনেকটাই নতুন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রত্যাশাগুলো আমরা জানতে শুরু করেছি। তাদের অভিমত ও সুবিধা-অসুবিধা মাথায় রেখেই পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংসদ টিভিতে ক্লাসগুলো প্রচারের সময় তা আইসিটি বিভাগের ফেসবুক পেজএ ও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এ ছাড়া দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্লাসগুলো সংসদ টিভিতেই পুনঃপ্রচার করা হয়।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, `পাঠদানকারী শিক্ষক ক্লাস শেষে বাড়ির কাজ দেবেন। শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা বিষয়ভিত্তিক খাতায় তারিখ অনুযায়ী বাড়ির কাজ করবে। স্কুল খোলার পর নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকের কাছে এই খাতা জমা দিতে হবে। বাড়ির কাজে প্রাপ্ত নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।`

নোয়াখালী সদর উপজেলার ঠেকারহাট হাজী আহমদ উল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম  বলেন, এই দুর্যোগের সময় সরকারের ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। একই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চরমটুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাবলু বলেন, পল্লী বিদ্যুৎকে জানানো হয়েছে, ক্লাস চলার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়।

ঢাকা আজিমপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফতাবুজ্জামান সরকার বলেন, শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে শিখবে, এটা তাদের জন্য রোমাঞ্চকর বিষয়।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, খুব শিগগিরই প্রাথমিকেও অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে এর প্রচার বিটিভির মতো সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইমাম হাসান বলেন, হোয়াইট বোর্ডের লেখা বোঝা যায়নি। তার বাবা শাহজাহান সোহেল গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি সংসদ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছেন।

একজন শিক্ষক বললেন, মফস্বলের শিক্ষাথীরা টিভির ক্লাসে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। অভিভাবক বা শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা না থাকায় শিক্ষার্থীরা টিভির পাঠে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমই দেখা যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীর ঘরে টিভি না থাকায় বা ক্যাবল সংযোগ না থাকায় আপতকালীন এ পাঠ কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর