বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই, ২০২০ ১২:১১ পিএম


বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য থোক বরাদ্দের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ২২ জুন ২০২০  

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য থোক বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে `বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি`। সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেনের পাঠানো এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সোমবার এ দাবি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ মিলিয়ে মোট ৬৬ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাখাতে এ বছরে বরাদ্দ মোট বাজেটের ১১.৬৯ শতাংশ। সবমিলিয়ে বিশ্বব্যাপী মহামারির এই সময়ে একটি আশাবাদী বাজেট প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানানো হয় বাজেট প্রতিক্রিয়ায়।

এতে আরও বলা হয়, করোনা মহামারির প্রকোপে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট। এ কারণে ব্যবসার গতিবদল হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থাও।  সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এখন অনলাইনে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও গত মার্চের শেষ দিক থেকে অনলাইনে পাঠদানে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে বাজেটে মোবাইল কলের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব কার্যকর করায় সেটা মোবাইল ইন্টারনেটের জন্যও প্রযোজ্য হয়েছে। এই প্রস্তাব অনলাইনে পাঠগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ করেই নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

এ কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শিক্ষার্থীদের জন্য এই শুল্ক মওকুফসহ দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কয়েকটি প্রস্তাব রাখা হয়। তাদের প্রস্তাবগুলো হলো-

১. মোবাইল কলের ওপর সম্পূরক শুল্ক পুরোপুরিভাবে প্রত্যাহার করার জন্যে আমরা জোর অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সব ক্যাম্পাসে উচ্চগতির /উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেট সেবা বিনামূল্যে দেওয়ার  আবেদন জানাচ্ছি।

২. শিক্ষার্থীদের জন্যে ইতোমধ্যে অতিসাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেটের `বিশেষ শিক্ষা প্যাকেজ`-এর জন্য আমরা  ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর অনুরোধ করেছি। অন্যান্য গ্রাহকের ক্ষেত্রে যেভাবে ইন্টারনেট প্যাকেজ অফার করা হয়, সেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য `বিশেষ প্যাকেজ` দেওয়া সম্ভব। বিষয়টি আবারও বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

৩. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দিষ্ট হারে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করার লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে একটি থোক বরাদ্দ রাখার অনুরোধ করছি। এর মাধ্যমে সাময়িক অর্থঘাটতির মুখে সবার বেতনভাতার সুরক্ষা সম্ভব হবে। এই মর্মেও আমরা ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন করেছি। বিষয়টি এখন জরুরিভিত্তিতে বিবেচনার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে আবারও অনুরোধ জানাই।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর