শুক্রবার ২৪ মে, ২০১৯ ৪:৪৪ এএম


বাংলাদেশে অধ্যাপক বিদেশে প্রভাষক!

নিজামুল হক

প্রকাশিত: ০৯:৫৮, ৩০ মার্চ ২০১৮  

রাজধানীর একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর্জা হাসানুজ্জামান ফেসবুকে একটি স্ট্যাট্যাস দিয়ে বলেছেন, ‘আমি আর কোনোদিন প্রমোশন পাবো না।’ সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আদেশও যুক্ত করেছেন, আদেশটি তার পদোন্নতির। অর্থাত্ ১২ বছরে তিনি তার পেশার সবগুলো পদোন্নতি লাভ করেছেন। অধ্যাপক হয়েছেন। তার আর কোনো পদোন্নতি বাকি নেই।

প্রায় একই সময়ে মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করা এক শিক্ষক সবেমাত্র সিনিয়র লেকচারার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। মালয়েশিয়ায় কর্মরত ওই শিক্ষক এই প্রতিবেদককে জানান, এখানে অধ্যাপক হওয়া এত সহজ নয়। বিভাগে খুব কমসংখ্যকই অধ্যাপক থাকেন।

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদের। যিনি লিয়েন নিয়ে দ্বীপ দেশ ফিজি’র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে দুই বছরের জন্য শিক্ষকতা করছেন। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় তার   লিয়েনের মেয়াদও বৃদ্ধি করেছে। ফিজি’র ইউনিভার্সিটি অব দা সাউথ স্পেসিফিক এর ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী স্কুল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের তিনজন শিক্ষকের মধ্যে বাংলাদেশি এ শিক্ষকের অবস্থান তিন নম্বরে।

দেশের একাধিক সিনিয়র অধ্যাপক এ প্রতিবেদককে বলেছেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিজ নিজ আইন-বিধিমালার আলোকে হয়ে থাকে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালোভাবে পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ত্রুটি রয়েছে। এ কারণে বিদেশের তুলনায় বাংলাদেশের অধ্যাপকদের অবস্থান নিচের দিকে থাকছে।

রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অধ্যাপক হযরত আলী মনে করেন, ত্রুটিপূর্ণ পদোন্নতি প্রক্রিয়ার কারণেই বাংলাদেশের অধ্যাপকরা বিদেশে সম্মান পাচ্ছেন না।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. সাজেদুল করিমও একই মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য অসম্মান হয় এমন কাজ করা ঠিক নয়। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সব কিছু ঠিকমতো বিবেচনায় আনা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশের অধ্যাপকের বিদেশে গিয়ে নিম্নপদে কাজ করাটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অসম্মানজনক। তিনি বলেন, যাদের যোগ্যতা নেই তারা পদোন্নতি পাক সেটা আমরা চাই না। এ কারণে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অভিন্ন গাইডলাইন দিয়েছি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া বদালানো দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আলী আকবর।

সূত্র: ইত্তেফাক 

 

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর