শনিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৯:২৩ পিএম


বাংলাদেশীদের ফেরাতে কি ধরনের বিমান পাঠানো হবে জানতে চেয়েছে চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৩৩, ২৮ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১১:৫০, ২৯ জানুয়ারি ২০২০

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকা চীনের উহানে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে কি ধরনের বিমান পাঠানো হবে তা জানতে চেয়েছে চীন। যারা ফিরতে চান তাদের রেজিষ্ট্রেশন শুরু হয়ে গেছে। দুই এক দিনের মধ্যেই সঠিক ধারণ ক্ষমতার বিমানটি নির্ধারণ করতে পারবে সরকার ফিরে আসতে চাওয়া মানুষের সংখ্যার মাধ্যমে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুকে এক পোস্টে এ কথা জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,‌ SARS ভাইরাসের ভেকসিন আবিস্কার করতে `জিন সিকুয়েন্স` থেকে মানব দেহে পরীক্ষা করতে সময় লেগেছিলো ২০ মাস।

CORONA ভাইরাসের `জিন সিকুয়েন্স` ইতিমধ্যে করে ফেলেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা (রয়টার্স জানিয়েছে আজকে)। ভেকসিন তৈরী করে তা মানব দেহে পরিক্ষা করতে সর্বোচ্চ সর্বমোট সময় লাগবে ৩ মাস যার মধ্যে ১ মাস প্রায় পার হয়ে গেছে।

SARS এর পরে চীন এই সম্ভাব্য ঝুকির জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে যার প্রভাব আমরা দেখছি সর্বোচ্চ সতর্কতামুলক ব্যবস্থায়।

এই কথাগুলো তাদের জন্য যারা খুব শংকার মধ্যে আছেন চীনে। ঘরের মধ্যেই একনাগাড়ে থাকতে বলাটাই একধরনের `কোয়ারেন্টাইন` ব্যবস্থা। ১৪ দিন সর্বোচ্চ, যার মধ্যে কম বেশী ৭ দিন পার হয়ে গেছে।

কি ধরনের বিমান আমরা পাঠাব তা জানতে চেয়েছে চীন। যারা ফিরতে চান তাদের রেজিষ্ট্রেশন শুরু হয়ে গেছে। আমরা দুই এক দিনের মধ্যেই সঠিক ধারণ ক্ষমতার বিমানটি নির্ধারণ করতে পারবো ফিরে আসতে চাওয়া মানুষের সংখ্যার মাধ্যমে।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর ফেসবুক পেজে আরও লিখেছেন, ‘আমি অনুরোধ করবো যে কয়েকটা দিন ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে সেই সময় পর্যন্ত চীন সরকারের প্রতিটি নির্দেশনা কোন ব্যতিক্রম ছাড়া মেনে চলার জন্য। এতে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যহত হচ্ছে ঠিকই কিন্তু নিজের জীবনের স্বার্থে এবং ভাইরাসটি যেন তাদের কারও মাধ্যমে না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতে চীনের স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশনাগুলো মেনে চলতেই হবে।

আমি আরও অনুরোধ করবো বাংলাদেশে থাকা তাদের পরিবারের সদস্যদের যেন চীনে থাকা তাদের আত্মীয়দের তারা এই বার্তাটি পৌঁছে দেন এবং তাদের উদ্বুদ্ধ করেন। আমাদের দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা পালাক্রমে ২৪ ঘন্টা তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং অতিপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের চেস্টা করছেন। আমরা ঢাকা থেকে দূতাবাসের কার্যক্রমের সাথে সমন্বয় করছি এবং তদারকি করছি।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সারাদেশের সরকারি হাসপাতালে অনতিবিলম্বে আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলের উহানে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। এরপর এ ভাইরাস চীনের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ইতোমধ্যে বিশ্বের এক ডজনের বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনা কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতোই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস।

 

এডুকেশন বাংলা / এসআই

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর