মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ৭:৪২ এএম


বশেমুরবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা, হল ছাড়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:০০, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ভিসির পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়। আজ শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সারাদিন ও রাতভর উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিনের অপসারণ দাবিতে আন্দোলন করেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলেন, উপাচার্য অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন, ঘরে ফিরবেন না।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাঁদের এক দফা, এক দাবি—ভিসির অপসারণ এই স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখরিত করে রেখেছেন। উপাচার্যের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবিতে গত বুধবার রাত থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের আগের ১৪ দফা দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দিলেও আন্দোলনে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা উপাচার্যের পদত্যাগ চান।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনের ডাক দেন। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ছুটির দিনেও তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যান।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘এই ভিসি (খোন্দকার নাসির উদ্দিন) ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাদা দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। সেখানে তিনি পরাজিত হন। একজন বিএনপিপন্থি ভিসি কখনো বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বঙ্গবন্ধুর ভূমিতে থাকতে পারেন না। আমাদের একটাই দাবি, ভিসিকে অপসারণ করতে হবে।’

ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া নামের এক ছাত্রীকে বহিষ্কার করার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। বুধবার রাতে ওই ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের ১৪ দফা দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের পর সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন কয়েকশ শিক্ষার্থী। এই কর্মসূচি এখনো চলছে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে ক্লাস, পরীক্ষাসহ কোনো একাডেমিক কার্যক্রম চলেনি। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আন্দোলনরত অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্যকে দ্রুত অপসারণ করা না হলে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে। তাই আমাদের একটাই দাবি, ভিসিকে অপসারণ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা হোক।’


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর