শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ৪:৩৩ এএম


বদলিতে সফটওয়ার এবং নম্বর: প্রাথমিক শিক্ষকরা কি ভাবছে

আফতাব তাজ

প্রকাশিত: ০৯:৫৫, ১৯ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৭:২১, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

প্রাথমিকে মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি অনৈতিক কর্মকাণ্ড হয় বদলিতে। বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ি প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম চলে। এসময়টায় শিক্ষক সংগঠনের কিছু নেতা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কিছু শিক্ষা কর্মকর্তা একপ্রকার ব্যবসায় নেমে পড়ে। যা শেষ পর্যন্ত অধিদপ্তর পর্যন্ত গড়ায়। টাকার বিনিময়ে অবৈধ বদলি কার্যক্রমের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মচারি-কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলিতে বিদ্যমান নীতিমালা মানার কথা থাকলেও তা পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়না।

যার ফলে বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয় না। বরং প্রতিটি ধাপে শিক্ষকরা হয়রানির শিকার হন। বিদ্যমান এ ব্যবস্থায় বদলির আবেদনের পর শিক্ষকরা ধরনা দেন সংশ্নিষ্ট শিক্ষা অফিসে। স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে বা ক্লাস বন্ধ করে শিক্ষকদের দিনের পর দিন, কখনও মাসের পর মাস উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কার্যালয়, উপপরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে ধরনা ও তদবির করতে হয়।

এসব বিষয় বিবেচনা করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলি নীতিমালা সংশোধনের পাশাপাশি বদলি কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করতে একটি সফটওয়্যার তৈরি করছে সরকার। । এজন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মিজানুর রহমান নামের একজন সহকারি শিক্ষক জানান, সফটওয়্যারের মাধ্যমে যোগ্যতার বিভিন্ন মাপকাঠি পর্যালোচনা করে নম্বরের মাধ্যমে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম নিয়ে আসতে পারলে মেধাবী, কর্মঠ ,সৎ এবং সিনিয়র শিক্ষকরা উপকৃত হবে। যারা অনৈতিক এবং জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘণ করে কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবে বদলি হতে চায় তারা অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়বে।

জানা গেছে, এই সফটওয়ারের মাধ্যমে বছরে শুধুমাত্র জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত- এ তিন মাস নয়, সারা বছরই শিক্ষক বদলি করা যাবে। শিক্ষক বদলির জন্য একজন শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা, ইনোভেশন (উদ্ভাবনী দক্ষতা), শ্রেষ্ঠ পুরস্কারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১০০ নম্বর নির্ধারণ করা হতে পারে।এজন্য ১০০ নম্বর নির্ধারণ করা হতে পারে। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া আবেদনকারী পছন্দের স্থানে বদলির সুযোগ পাবেন।

কামাল আহমেদ নামের একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কোনো ভূমিকা না থাকা সত্বেও শুধু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, ঘুষ দিয়ে সুবিধামত স্থানে বদলি হয়ে চলে আসে। অপর দিকে মেধাবী, শিক্ষানুরাগী বা সিনিয়র হওয়া সত্বেও দীর্ঘদিন ধরে দূরবর্তী কোথাও চাকরি করতে হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বাঁধাগুলোর ক্ষেত্রে বদলিতে অব্যবস্থাপনাও অন্যতম কারণ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর