মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০:৩৯ এএম


বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের স্থগিত পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৪৭, ১৩ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৮:১৮, ১৩ জুন ২০১৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিকেল অফিসার পদে স্থগিত হওয়া নিয়োগ পরীক্ষা পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকদের আন্দোলনের মুখে গত ১১ জুন এ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

বিএসএমএমই’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া সিন্ডিকেট সভার পর সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


তিনি বলেন, ‘গত ১০ জুন থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয় কিন্তু ১১ জুন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পরে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে আজ আমাদের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই কমিটিতে কারা থাকবেন তা পরে জানানো হবে।’

পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জানান, মেডিকেল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ণ, মুদ্রণ এবং প্যাকেটিং কমিটির সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তাদের কোনো আত্মীয়-স্বজন এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।

বিএসএমএমই’র উপাচার্য আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ঘটনায় যারা জড়িত ছিলেন তাদেরকে ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলার এজহারভুক্ত আসামি করবে পুলিশ।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২০ মার্চ বিএসএমএমইউতে ২০০ চিকিৎসক নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। লিখিত পরীক্ষায় একটি পদের জন্য চারজন পাস করেন। এ হিসাবে ৭১৯ মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে ৮২০ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ফল ঘোষণার পর পরই সুযোগবঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

গত ২২ মার্চ মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সকালে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শুরু করেন চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকরা। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন সকালে তারা উপাচার্যের অফিসে যেতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীদের (পুলিশ-আনসার) হামলায় প্রায় ১৫ জন চিকিৎসক আহত হন। এ সময় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ওই হামলার ঘটনায় দুপুর থেকে ভিসির কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন মেডিকেল অফিসার পদে চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকরা।

চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকদের আন্দোলন চলার মধ্যেই চূড়ান্ত নিয়োগের লক্ষ্যে গত ১০ জুন থেকে উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। কিন্তু তার একদিন পরই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চাকরিপ্রার্থী চিকিৎসকরা বিক্ষোভ করে তিন প্রোভিসি, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টরসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর