শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২০ ১:৪১ এএম


বঙ্গবন্ধুই ভাষা আন্দোলনের দ্রষ্টা এবং স্রষ্টা: সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৮:৫৩, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৯:১৩, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ’৪৭-এর জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হতে হবে উর্দু। বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘বাংলা’। আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধুই ভাষা আন্দোলনের দ্রষ্টা এবং স্রষ্টা। ’৪৮-এ হরতাল হয়েছিল। কিন্তু ’৪৭-এর ১৫ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ থেকে ছোট্ট একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হলো- ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’। ’ অর্থাৎ, ভাষা আন্দোলন ’৪৭ থেকেই শুরু হয়েছিল। প্রশ্ন উঠতে পারে- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তো অত্যন্ত বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন। তিনি কী করে মেনে নিলেন ৬ দশমিক ০৭ ভাগ মানুষের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করবেন? এখানে যুক্তি নয়, কাজ করেছিল ইসলামিক আবেগ। তিনি ইসলামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন। ভাষার প্রশ্নেও তিনি সেটাই করতে চাইলেন।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যমে আমরা বাংলা ভাষা পেয়েছি। সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ডিগ্রি কলেজে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন `আলো অনির্বাণ` আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সব ভাষা শহিদই ভাষার জন্য প্রাণ দেননি, তবে তাঁদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাকে আমরা মাতৃভাষা হিসাবে পেয়েছি।

তিনি বলেন, মুঘল আমলে সেনাবাহিনীর মধ্যে হিন্দুস্তানি ভাষা চালু হয়েছিল নানা ভাষা নিয়ে। সেখান থেকে হিন্দু পণ্ডিতরা ফার্সি ও আরবি শব্দ ছেঁটে দিয়ে দেবনাগরী ভাষায় লেখা শুরু করলেন নতুন ভাষা। সেটা হিন্দি। তার প্রতিক্রিয়ায় মুসলমানরা হিন্দুস্তানি ভাষা থেকে সংস্কৃত ও আঞ্চলিক শব্দ ছেঁটে দিয়ে যে ভাষা তৈরি করলেন তার নাম হলো উর্দু। এটা ইসলামী ভাষা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পেছনের কারণটি হলো ভাষাটি লেখা হয় আরবি হরফে। ভাষার মধ্যে ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, রাজনৈতিক চেতনা চলে এলো। সেই সুবাদে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিলেন। এটাই পটভূমি।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলী আজগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শওকত আরা হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশের সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত উপমহাপরির্দশক জয়দেব কুমার ভদ্র।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর