মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ১৩:২৩ পিএম


বগুড়ায় ডাকসু ভিপি নুরের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৪৬, ২৭ মে ২০১৯  

বগুড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে শহরের উডবার্ন সরকারি গণগ্রন্থাগারের সামনে এ হামলা চালানো হয়। হামলায় নুর ও তার সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ১৩ নেতাকর্মী ও এক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নুরুল হক নুরসহ চারজনকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বগুড়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানান, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে রোববার বিকেলে শহরের উডবার্ন সরকারি গণগ্রন্থাহার মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে একই সময় পাশের শহীদ টিটু মিলনায়তনে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। পাশাপাশি অবস্থানের কারণে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের কর্মসূচি পালন করতে নিষেধ করা হয়। রাকিব বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রস্তুতি নিয়েও তারা কর্মসূচি থেকে বিরত ছিলেন। শুধু ভিপি নুরসহ ঢাকা থেকে আসা নেতাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তারা অপেক্ষা করছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে নেতারা আসার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা চালায়। এতে ভিপি নুরসহ তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। ছবি তুলতে গিয়ে আহত হন যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন শাহ্‌ নেওয়াজ শাওন।

ভিপি নূরের সঙ্গে থাকা সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান জানান, হামলার পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা ভর্তি হতে বললেও নিরাপত্তার অভাবে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. রোকাইয়া আক্তার অ্যানি জানান, ভিপি নুরুল হক নুর, রাতুল, আপন ও ফারুক নামে চারজন এসেছিলেন চিকিৎসা নিতে। তাদের মধ্যে নুরের মুখ, কপাল ও পায়ে জখম ছিল। আপনের ঘাড়ে, রাতুলের পায়ে এবং ফারুকের শরীরের একাধিক স্থানে জখম ছিল। তিনি বলেন, আমরা ওই চারজনকে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ভর্তি না হয়েই চলে গেছেন।

বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস বলেন, ভিপি নুরুল হক নুর কোটা আন্দোলনকারী শিবির কর্মীদের নিয়ে সভার আয়োজন করেছিলেন। সাধারণ ছাত্ররা তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে তাদের প্রতিরোধ করে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোনো হামলা চালায়নি।

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের স্থানীয় নেতারা তাদের প্রোগ্রামের অনুমতি চেয়েছিলেন। তাদের বলা হয়েছিল অনুমতি দেয় ডিএসবি। কিন্তু যতদূর জানা গেছে ডিএসবিও তাদের অনুমতি দেয়নি। তিনি বলেন, তার পরও তারা এখানে প্রোগ্রামের আয়োজন করেছিলেন। তবে আমরা আসার আগেই ভিপি নূরসহ কয়েকজনের ওপর হামলা হয়েছে। কারা হামলা চালিয়েছে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি এখনও জানা যায়নি।


এডুুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর