রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫০ পিএম


ফেসবুকে প্রশ্নফাঁসের গুজব!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:১৯, ২ নভেম্বর ২০১৯  

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকায় পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রশ্নফাঁসের এমন গুজব যারা ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

শনিবার (২ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগের দিন থেকেই ‘প্রশ্নফাঁস হয়েছে’ বলে ফেসবুকে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ও পেজের পোস্ট দেওয়া হয়। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পোস্ট করা প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গুজব ছড়ানো এ রকম কয়েকটা অ্যাকাউন্ট হচ্ছে, ‘সকল বোর্ড পরীক্ষার সিউর সাকসেস সাজেশন্স’, ‘Ahmed Sunny’, ‘Mahmud Hasan’, ‘Mahmud Raihan’, ‘ডিগ্রী অনার্স মাস্টার্স প্রশ্নপত্র এবং ১০০ শতাংশ কমন সাজেশন’, ‘Ahmed Shehzad।

এছাড়া পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই দুপুর ১২টার সময় বাংলা প্রশ্নের ছবি ‘HSC Board Exam Suggestion & Admission Exam Suggestion-2019’ নামের পেজ থেকে পোস্ট করা হয়।

এদিকে গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছে। কয়েক বছর ফেসবুকে মোবাইল নম্বরসহ বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রশ্ন দেওয়ার ফাঁদ পেতেছিল অসাধু চক্র। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট এই চক্রের ১১৮ জনকে গত ৪ থেকে ৫ বছরে গ্রেফতার করে। তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারা স্বীকার করেছে যে, শুধুমাত্র টাকা রোজগারের জন্য এই জঘন্য কাজ তারা করেছে।

এ ধরনের অপকর্মে যারা জড়িত হবে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার শেখ নাজমুল আলম।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত যেকোনো পরীক্ষার প্রধান সমস্যা হলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব। প্রতিবছর পরীক্ষা শুরু হলে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টা সামনে চলে আসে। কিছু অসাধু লোক সামান্য অর্থের বিনিময়ে আমাদের মূল্যবোধকে বেচাকেনার হাটে তোলে।

তিনি বলেন, কিছু অভিভাবক ও শিক্ষার্থী এতে সামিল হয়। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও এই প্রশ্নফাঁসের গুজব পরীক্ষার্থীকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। এমনিতেই পড়াশুনাসহ পরীক্ষার চিন্তা, সঙ্গে যুক্ত হয় গুজব। সবমিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর অবস্থা হয় অবর্ণনীয়। পড়াশোনা বাদ দিয়ে তারা প্রশ্ন সংগ্রহে মনোযোগী হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধে আমাদের ব্যবস্থাপনা আছে। আমরা সবসময় একই পদ্ধতি ব্যবহার করছি তা নয়। আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছি। যার ফলে প্রশ্নফাঁস করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের কঠোর নজরদারি আছে। তবে যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা হবে।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ার দিয়ে বলেন, প্রশ্নফাঁস হচ্ছে না, তবু প্রশ্নফাঁসের গুজব রটানোর চেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রটনাকারীদের বিষয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কেউ কান দেবেন না। এখনও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি ঘটবেও না। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী প্রতারক চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সে ব্যাপারে নজরদারি করছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, প্রশ্নফাঁস করা এখন আর সম্ভব নয়। অভিভাবকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ- গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। কোনো অবস্থায়ই প্রশ্নফাঁস সম্ভব নয়।

এডুকেশন বাংলা/কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর